নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কল খুললেই সুতোর মতো জলের ধারা পড়ত। কোথাও আবার জল সরবরাহ হতো মাত্র একবেলা। মধ্য হাওড়ার ছয়টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। গরম বাড়তে থাকায় ভোগান্তি চরমে উঠছিল বাসিন্দাদের। জলসংকট থেকে বাসিন্দাদের রেহাই দিতে আগেই ওলাবিবিতলার বেজপুকুর মাঠে অত্যাধুনিক বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরি করেছিল পুরসভা। এবার শেষ হল জলের পাইপলাইন পাতার কাজ। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই জল সরবরাহ শুরু হল ছয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায়। উপকৃত হলেন প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা।
এদিন পাম্পিং স্টেশন থেকে জল সরবরাহের সূচনা করেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। ছিলেন উপ মুখ্য প্রশাসক সৈকত চৌধুরী এবং পুরসভার অন্য পদস্থ কর্তারা। মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘মধ্য হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এতদিন পানীয় জলের সমস্যা ছিল। মন্ত্রী অরূপ রায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। অবশেষে বড় প্রজেক্টটির কাজ শেষ করল পুরসভা। এবার থেকে আর বাসিন্দাদের জল নিয়ে ভোগান্তি সহ্য করতে হবে না।’
মধ্য হাওড়ার ২৫, ২৬, ২৮, ৩০, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে আগে পদ্মপুকুর জল প্রকল্প থেকেই জল সরবরাহ করা হতো। একটিমাত্র পাম্পিং স্টেশনের ওপর প্রচুর চাপ পড়ার পাশাপাশি দিন দিন বহু সংখ্যক ফ্ল্যাট-বাড়ি তৈরি হওয়ার ফলে এই ছয়টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল সরবরাহ নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। তিনবছর আগেও বেশকিছু জায়গায় জল সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল না। পদ্মপুকুর জল প্রকল্পের উপর চাপ কমাতে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক ও মন্ত্রী অরূপ রায় পুরসভার সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর ২০২২ সালে ওলাবিবিতলার বেজপুকুর মাঠে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরি হয়। ছয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে নতুনভাবে পাইপলাইন পাতার কাজ চলে প্রায় আড়াই বছর ধরে।
এই গরমেই বাসিন্দাদের জলসংকট থেকে রেহাই দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল পুরসভা। অবশেষে সেই কাজ শেষ হল। পুরসভা জানিয়েছে, এজন্য পাইপলাইনের কাজে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
এই প্রজেক্টে যুক্ত পুরসভার এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘দক্ষিণ হাওড়ার কিছু এলাকাতেও জলের সমস্যা ছিল। সেখানে পাইপলাইন পাতার কাজ আগেই শেষ হয়েছে। বর্ষা শুরুর আগেই মধ্য হাওড়ার এই ছয়টি ওয়ার্ডে পাইপলাইনের কাজ শেষ করতেই হতো। জল না-পাওয়া, জলের গতি কম থাকা নিয়ে আর কোনও অভিযোগ থাকবে না।’
শিবপুর অঞ্চলের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ বাসিন্দা বীরেন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এতদিন প্রতি বেলায় জল আসত ঠিকই কিন্তু এক বালতি জল ভরতেই লেগে যেত আধ ঘণ্টা! যেন চাতক পাখির অপেক্ষা। অবশেষে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেলাম।’ জলের সমস্যা মেটায় খুশি স্থানীয় মহিলারাও। গৃহবধূ অর্চনা সেন, পৌষালি চক্রবর্তীরা বলেন, ‘জলের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। বিধায়ক ও পুরসভাকে অনেক ধন্যবাদ।’ - নিজস্ব চিত্র