Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুকোচ্ছে নদী-নালার জল, পাট জাঁক দিতে পারছেন না মুর্শিদাবাদের চাষিরা

মুর্শিদাবাদের পাটচাষিরা নদী-নালার জল শুকিয়ে যাওয়ায় জাঁক দিতে পারছেন না। বৃষ্টির অভাবে ফলন ও গুণগত মানে প্রভাব পড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

শুকোচ্ছে নদী-নালার জল, পাট জাঁক দিতে পারছেন না মুর্শিদাবাদের চাষিরা
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার পাটচাষিরা চাতক পাখির মতো আকাশের দিয়ে চেয়ে রয়েছেন। বৃষ্টির অভাবে হা-হুতাশ করছেন। বৃষ্টির অভাবে নদী-নালা শুকোচ্ছে। পাটে জাঁক দেওয়ার জলের অভাব দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা পাট কাটতে জমিতে নামতে পারছেন না। বিস্তীর্ণ মাঠে খটখটে জমিতে দাঁড়িয়ে কার্যত শুকোচ্ছে গাছ। তাতে আঁশের গুনগত মান কমছে। এদিকে বাজারে পাটের দাম বেশ চড়া। চড়া দামে পাট বিক্রি করতে না পেরে হাত কামড়াচ্ছেন জেলার পাটচাষিরা। চাষিদের বক্তব্য, এবার পাটের যা দাম তাতে ভালো লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু জাঁক দেওয়ার জলের অভাবে চরম বেকায়দায় পড়েছি। বৃষ্টির জলের দিকে চেয়ে রয়েছি। কবে আকাশ সদয় হবে তার অপেক্ষায় রয়েছি। যদিও ততদিনে পাটের দাম কোথায় নামবে তা নিয়েও চাষিদের কপালে আশঙ্কার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ জেলার পাটচাষিরা পাট চাষ করে আশায় বুক বাঁধে। জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল হল পাট। জেলার বহরমপুর, নওদা, হরিহরপাড়া, বেলডাঙা, ইসলামপুর, ডোমকল ব্লকের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে পাটের চাষ হয়। প্রায় নব্বই শতাংশ জমির পাট জমিতেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, জেলায় এবার প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এখন দামও বেশ চড়া। সোমবারের বাজারে ১৪ হাজার টাকা কুইন্টাল দরে পাট বিক্রি হয়েছে। 
জাঁক দেওয়ার জলের অভাবে পুকুর ভাড়া নিয়ে অনেকে পাটে জাঁক দিয়েছেন। কিন্তু পাট চাষের জমির তূলনায় জাঁক দেওয়ার জলের পরিমাণ খুবই কম। রাজধরপাড়া এলাকার পাট চাষি মসলেম শেখ বলেন, চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আমন চাষের বীজতলা তৈরির জন্য মাত্র দু’কাঠা জমির পাট কেটে পুকুরে জাঁক দিয়েছি। জাঁক দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় গাছ শুকনো জমিতেই দাঁড়িয়ে রয়েছি। হরিহরপড়া ব্লকে বারুইপুরের চাষি রমজান মোল্লা বলেন, এখন পাঠের বাজার খুব ভালো। জলের অভাবে জাঁক দিতে না পারায় ভালো বাজার ধরতে পারলাম না। গাছ জমিতে ধুঁকছে। ফলন এবং গুনগত মানেও প্রভাব পড়বে। ভারি বৃষ্টিই এখন চাষিদের দুশ্চিন্তা কাটাতে পারে। এরপর দাম কোথায় এসে ঠেকবে জানিনা।  হরিহরপাড়ায় মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাট গাছ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ