নয়াদিল্লি: কুম্ভে প্রয়াগরাজের সঙ্গমের জলে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিপজ্জনক সব ব্যাকটেরিয়া। কোটি কোটি মানুষের মল-মূত্র জলকে দূষিত করে দিয়েছে। কোনওভাবেই তা স্নানের যোগ্য নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (সিপিসিবি)-র রিপোর্টে উঠে এসেছিল এমনই তথ্য। তারপরই দেশজুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে নামেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বলেন, কুম্ভের জল শুধুমাত্র স্নানই নয়, আচমনেরও যোগ্য। অযথা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এরইমাঝে ভোলবদল কেন্দ্রীয় সংস্থার। এবার ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের কাছে নতুন একটি রিপোর্ট পেশ করল সিপিসিবি। সেখানে বলা হয়েছে, স্নানের যোগ্য ছিল কুম্ভের জল। কয়েকদিনের ফারাকে একই সংস্থার দু’রকমের তথ্য প্রদানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যোগী সরব হওয়ার পরই কি রিপোর্টে তড়িঘড়ি এই পরিবর্তন? বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা।
সিপিসিবির ২৮ ফেব্রুয়ারির এই রিপোর্টটি ৭ মার্চ গ্রিন ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, সংগৃহীত তথ্যে অসঙ্গতির কারণেই একটি পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়েছিল। এক্ষেত্রে ১২ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে দু’বার করে জলের গুণগত মান খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি শাহি স্নানের দিনগুলিতেও গঙ্গা নদীর পাঁচটি জায়গায় ও যমুনা নদীর দু’টি জায়গায় জল পরীক্ষা করা হয়েছে। শেষমেশ দেখা গিয়েছে, সঙ্গমের জল স্নানের যোগ্য।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারির একটি রিপোর্টে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদই জানিয়েছিল, কুম্ভের জলে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। কোনওভাবেই তা স্নানের উপযুক্ত নয়। কিন্তু সেই তথ্য অস্বীকার করেন যোগী। বলেন, বিরোধীরা অযথা কুৎসা করছে। এমনকী কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকেও অপমান করা হয়েছে। এবার যেন যোগীর সুরেই কথা বলছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এদিকে এদিনই মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ থ্যাকারে গঙ্গার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমার জন্য কুম্ভের জল আনা হয়েছিল। ওই ওই জল কে খায়? ওই জল স্নানেরই যোগ্য নয়।