নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: টানা বৃষ্টির জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে আসানসোলের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁকশিমুলিয়ায় দেওয়াল চাপা পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম উমাকান্ত মণ্ডল। পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। আসানসোল পুরসভার বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাতের জেরে কয়লা উত্তোলনেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ইসিএলের দাবি, তিনদিনের বৃষ্টিতে তাদের ১ লক্ষ ২০ হাজার টন কয়লা উত্তোলনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, জল ছাড়া অব্যাহত রেখেছে ডিভিসি। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে মোট ৩৫ হাজার কিউসেক হারে দিনভর জল ছাড়া হয়েছে। যার জেরে জল ছাড়তে হয়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজকেও। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৩৬ হাজার ২৫০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জামুড়িয়ার বাঁকশিমূলিয়ায় নিজের ভগ্নপ্রায় বাড়িতেই দুপুরে শুয়েছিলেন উমাকান্তবাবু। তখন বাড়িতে একটি দেওয়াল ধসে যায়। অ্যাসবেস্টসের চালাটি ভেঙে পড়ে উমাকান্তবাবুর উপর। পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, আসানসোলে বৃষ্টি বাড়লেই রেলের আন্ডারপাসগুলি জলে প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন। আসানসোলের হটন রোড, দিলদারনগরে বিভিন্ন বাড়িতে জল ঢুকেছে। প্লাবিত হয়েছে বরাকরের বিড়িডাঙা এলাকাও। সব্জি বিক্রেতারা ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার লাউদোহা হাটে গিয়ে বড় ছাতা বিলি করেন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বৃষ্টিপাতের জেরে কয়লা উত্তোলনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ওসিপি প্রজেক্টগুলিতে কয়লা উত্তোলন কার্যত থমকে যায়। ইসিএলের দাবি, এই তিনদিন ওসিপিগুলি থেকে ৬০ শতাংশ কম কয়লা উত্তোলন করা গিয়েছে। ইসিএলের ডিরেক্টর(টেকনিক্যাল ও অপারেশন) নীলাদ্রি রায় বলেন, বৃষ্টিপাতের জেরে উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতেই মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়া অব্যাহত রেখেছে ডিভিসি। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মাইথন থেকে সাত হাজার কিউসেক হারে ও পাঞ্চেত থেকে ২৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। অপরদিকে, দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কারের পর আজ, শুক্রবার ব্যারেজ পরিদর্শনে আসছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।
• জলমগ্ন আসানসোল। নিজস্ব চিত্র