Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নতুন বাংলাদেশে প্রথম ছাত্রভোটেও কারচুপি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ী জামাতপন্থী ছাত্রশিবির, দাগ কাটতে ব্যর্থ খালেদার ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা

শেখ হাসিনার বিদায়ের পর প্রথম ছাত্রভোট হল ‘নতুন বাংলাদেশে’। আশ্চর্যের বিষয় সেই ভোটেও উঠল কারচুপির অভিযোগ। বুধবার নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই দেখা গেল খালেদা জিয়ার দলের ছাত্র শাখার ভরাডুবি।

নতুন বাংলাদেশে প্রথম ছাত্রভোটেও কারচুপি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ী জামাতপন্থী ছাত্রশিবির, দাগ কাটতে ব্যর্থ খালেদার ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:০৯
Prefer us on Google

ঢাকা: শেখ হাসিনার বিদায়ের পর প্রথম ছাত্রভোট হল ‘নতুন বাংলাদেশে’। আশ্চর্যের বিষয় সেই ভোটেও উঠল কারচুপির অভিযোগ। বুধবার নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই দেখা গেল খালেদা জিয়ার দলের ছাত্র শাখার ভরাডুবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জয়জয়কার জামাতপন্থী ‘ইসলামি ছাত্রশিবির’ সমর্থিত প্যানেলেরই। ডাকসু নির্বাচনে ২৮ কেন্দ্রীয় পদে ভোট হয়েছিল। এর মধ্যে ২৩টি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রশিবির। ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ন’টিতে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি তিনটি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ—সহ সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও জিতেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা। বিশেষ উল্লেখযোগ্য, ডাকসু নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের। সদ্যসমাপ্ত ভোটে সংগঠনটির কেউই জয়ী হতে পারেননি। যদিও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডাকসু নির্বাচন বয়কট করেছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য ও ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ও আবিদুল ইসলাম খান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থীরাও। যাবতীয় অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসিমউদ্দিন খান। ছাত্রশিবিরের জয় নিয়ে মুখ খুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর অভিযোগ, গোপনে আওয়ামি লিগের সঙ্গে আঁতাত করে ছাত্রলীগের সব ভোট নিয়ে নিয়েছে শিবির।

Advertisement

প্রায় সাড়ে ছ’বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। বাংলাদেশে পালাবদলের পরে এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্র লিগ’ বর্তমানে পদ্মাপারে নিষিদ্ধ। ফলে এবারের নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সঙ্গে প্রধান লড়াই ছিল খালেদা জিয়ার দল বিএনপির ছাত্রশাখা ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে’র। যদিও সবক’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ২৮টি পদের মধ্যে একটিতেও জিততে পারেনি ছাত্রদল।
 ভিপি পদে শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের আবু সাদিক ওরফে সাদিক কায়েম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪,০৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫৭০৮ ভোট। জিএস পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী এসএম ফরহাদ পেয়েছেন ১০,৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানবীর বারী হামিম পেয়েছেন ৫২৮৩ ভোট। জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট। গত মঙ্গলবার বিকেল চারটেয় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। রাতভর চলে গণনা।
 বুধবার সকাল সওয়া আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট ভবনে ফল ঘোষণা করা হয়। এর পরেই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আব্দুল কাদের। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূলত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। পাল্টা প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন জানান, নির্বাচনে কোনও কারচুপি হয়নি। এটা একটা মডেল নির্বাচন হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ