নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জেনারেল কোটায় দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেল যাত্রীদের। হয় রিগ্রেট কিংবা নো রুম মেসেজ পাচ্ছেন তাঁরা। অথবা দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্ট। কিন্তু উচ্চ ভাড়ার প্রিমিয়াম তৎকাল কোটায় অনায়াসে মিলছে একই রুটে একই দিনের টিকিট। শুধু তাই নয়। কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চেক করলেও প্রিমিয়াম তৎকাল কোটার ট্রেন টিকিট দিব্যি অ্যাভেলেবল থাকছে। সাধারণ তৎকালেও পরিস্থিতি কমবেশি একই। প্রশ্ন উঠছে যে, এটি কি যাত্রীদের বেশি ভাড়ায় দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে বাধ্য করার নতুন ছক? কারণ জেনারেলের তুলনায় প্রিমিয়াম তৎকালে টিকিট কাটলে সাধারণভাবে দ্বিগুণেরও বেশি মূল্য চোকাতে হয়। তৎকাল কোটার ক্ষেত্রেও টিকিটের দাম জেনারেলের তুলনায় অনেকটাই বেশি। পুজোর আগে ‘ডিজিটাল দালালরাজে’ যাত্রীদের হয়রানি চরমে উঠেছে।
সাধারণ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, তৎকাল কিংবা প্রিমিয়াম তৎকালে অনেক বেশি টিকিট অ্যাভেলেবল করে রাখছে রেল। তুলনায় জেনারেল কোটার ক্ষেত্রে অনেক কম সংখ্যক টিকিট ছাড়া হচ্ছে। এমনিতেই পুজোর সময় দূরপাল্লার ট্রেনে ঠাঁই নাই দশা । যদিও পুজোর টিকিট তৎকাল বা প্রিমিয়াম তৎকাল কোটায় এখনই বুকিং করা যাবে না। কিন্তু যাঁরা পুজো কিংবা উৎসবের মরশুমে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলেছেন, তাঁরা হয়তো শেষমেশ জার্নির একদিন আগে তৎকাল বা প্রিমিয়াম তৎকালে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া দিয়ে টিকিট কাটতে বাধ্য হবেন।
শনিবার বেলায় রবিবারের জন্য শিয়ালদহ থেকে এনজেপি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে স্লিপার ক্লাসে ওয়েটিং ছিল একশোর বেশি। কিন্তু প্রিমিয়াম তৎকালে ৬৮টি টিকিট অ্যাভেলেবল। এক্ষেত্রে ভাড়ার মাথাপিছু ৩৪৫ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭০০ টাকা! রবিবার একই রুটে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে জেনারেল কোটায় কোনো টিকিট নেই। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যাতেও প্রিমিয়াম তৎকালে ওই ট্রেনে স্লিপার ক্লাসে ৭০টি টিকিট অ্যাভেলেবল। ভাড়া ৩৫৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬২৫ টাকা।