নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং অবশ্যই জেন জি আন্দোলন। এই ত্র্যহস্পর্শে কি ধস নেমেছে মোদি সরকারের প্রতি ‘আস্থা’য়? এই প্রশ্ন তুলে দিল সি ভোটারের একটি সমীক্ষা। আগস্ট মাসে তাদের ‘মুড অব দি নেশন’ (এমওটিএন) সমীক্ষায় তারা মতামত নিয়েছিল দেশজুড়ে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৪৪ জন নাগরিকের। তাঁদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই মনে করছেন, মোদি জমানায় ‘গণতন্ত্র বিপদের মুখে’। যাঁরা বলছেন, গণতন্ত্রের বিপদ নেই, সেই পরিসংখ্যানটা ৪২ শতাংশ। বাকিরা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অথচ, গত জানুয়ারি মাসের সমীক্ষাতেই ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ উলটো। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার গ্রাফ নেমে গিয়েছে বলে দাবি করেছে সমীক্ষা। জানুয়ারি মাসের ৫৫ শতাংশ থেকে তাঁর জনপ্রিয়তার রেখচিত্র একধাক্কায় নেমে এসেছে ৪৮.৭ শতাংশে। শুধু প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা নয়, বিজেপির আসন সংখ্যাও কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। আর এই সবেরই কারণ হিসাবে খাড়া করা হয়েছে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভকে। তাঁরা সাফ বলছেন, দেশের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা বেকারত্ব। মুদ্রাস্ফীতিকে সবচেয়ে বড়ো ব্যর্থতা হিসাবে দেখছেন ২৩ শতাংশ মানুষ। আর ৫৬ শতাংশ মতামতদাতা মনে করছেন, মোদি সরকারের আর্থিক নীতির ফলে লাভবান হচ্ছেন শুধুই বড়ো ব্যবসায়ীরা।
সমীক্ষায় আরও দাবি করা হয়েছে, এখনই লোকসভা ভোট হলে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ১১টি আসন কম পড়বে বিজেপির। কিন্তু জানুয়ারি মাসের সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত কী ছিল? ২৭২-এর ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ২৮৭টি আসন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে জয় না এলে এই সংখ্যাটা আরও অনেকটা কমতে পারত। বিজেপির আসন সংখ্যা কমলেও কংগ্রেসের ঝুলিতে বাড়তি ২৬টি আসন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে সমীক্ষা। তবে সর্বশেষ সমীক্ষাতেও সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে বড়ো কোনো সংশয়ের ইঙ্গিত নেই। কারণ, এনডিএ’র নিরিখে থেকে যাবে ৩২৬টি আসন। অর্থাৎ, এখন ভোট হলে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় শরিকদের আসন সংখ্যা বাড়বে। তাই ২৯৩টি ছাপিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যা পৌঁছে যাবে ৩২৬’এ। বিজেপির জন্য ‘মুড অব দি নেশন’-এ উদ্বেগের কারণ সেক্ষেত্রে একটাই—মোদির জনপ্রিয়তায় ধস। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদির পারফরম্যান্স নিয়েও অসন্তোষ ঊর্ধ্বমুখী বলেই সমীক্ষায় ইঙ্গিত। জানুয়ারির সমীক্ষায় তাঁর কাজকে ‘অসাধারণ’ বলে মত প্রকাশ করেছিলেন ৩৫.৬ শতাংশ। এবার সেই পরিসংখ্যানটা ৩০.১ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, রামমন্দিরের প্রণামি চুরির ঘটনা একযোগে কেন্দ্রের মোদি সরকার ও উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের ভাবমূর্তিতে বড়ো ধাক্কা দিয়েছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪৬.৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, প্রণামি চুরির ঘটনা মোদি ও যোগী সরকার সম্পর্কে তাঁদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ৪৩.২ শতাংশ মানুষ সাফ জানিয়েছেন, এনডিএ শাসনে দুর্নীতি বেড়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা কিন্তু জানুয়ারি মাসের মতো সেই ২৭ শতাংশেই থেকে গিয়েছে। উপরন্তু নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা বাড়তে থাকলে দুই শিবিরের প্রধান দুই নেতার জনপ্রিয়তার ফারাক আরও কমবে। মোদি ও রাহুলের পর জনপ্রিয়তার নিরিখে (৯.২ শতাংশ) তৃতীয় স্থানে উঠে এসে চমক দিয়েছেন টিভিকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবের মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদকেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি।