নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: উপলক্ষ্য শিক্ষক দিবস। শনিবার জাতীয় পুরস্কার জয়ী শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে বৈঠকে শিক্ষকদের একাধিক পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের মোবাইল-কম্পিউটারে স্ক্রিনটাইম কমানো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের ব্যবহার রোধে শিক্ষকদের ভূমিকা উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অনেক শিশুর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। তাঁর কথায়, ‘স্ক্রিন টাইম কমলে পড়ুয়াদের খেলাধূলায় আগ্রহ বাড়বে।’ তিনি বলেছেন, মাঠে গিয়ে খেলাধূলার গুরুত্ব অপরিসীম। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সুরেই পড়ুয়াদের মোবাইলের স্ক্রিনটাইম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ভয়ংকর কুপ্রভাব রয়েছে। গুজরাতে দেখুন, ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত মোবাইল ফোন হাত দিতে দেয় না ছাত্র-ছাত্রীদের। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে। রাত্রি দেড়টা দুটোর আগে ঘুমাতে যায় না। সারাক্ষণ দেখছে। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ছে, আড়ালে হতেই আরম্ভ করে দিচ্ছে।। এই সমস্ত সংস্কার যদি না করেন তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের কোনো মানেই থাকবে না।’ এক্ষেত্রে রাজ্যের পড়ুয়াদের ট্যাব বা মোবাইল কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়ার যে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পটি চালু রয়েছে, সেটির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল।
এদিন শিশুদের সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার উপরও জোর দেন মোদি। পড়ুয়াদের নিজেদের আগ্রহ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে স্কুলগুলিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল কার্যকলাপ আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পড়ুয়াদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। মোদি বলেন, ‘বড়ো শহর বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও মাদকের সমস্যা এখন আর গোপন নয়। কীভাবে মাদক পাচ্ছে পড়ুয়ারা, সেটাও সবসময় বোঝা যায় না। তাই কোনো পড়ুয়ার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে শিক্ষকদের তা লক্ষ্য করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাঠ্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে শিশুদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তাঁর মতে, শিশুদের শৈশব যেন হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শনিবার জিডিপির কারচুপি নিয়ে চলতি বিতর্কেও মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, যারা দেশকে ‘ভঙ্গুর পাঁচ অর্থনীতি’র মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল, তারাই এই ৭.৮ শতাংশ ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার হজম করতে পারছে না। শনিবার দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চকেই বিরোধীদের আক্রমণের জন্য বেছে নেন তিনি। সুর চড়িয়ে মোদি বলেন, ‘মিথ্যার গুঞ্জন কখনও সত্যের গর্জনের কাছে টিকতে পারে না।’ এদিন সমালোচকদের ‘দিমাগি নকশাল’-এর পাশাপাশি ‘নারাজ ফুফা’ বলেও কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।