


কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমার তিন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ছবি মোটের উপর শান্তিপূর্ণ রইলেও দিনভর নানা ছোটোখাটো অশান্তি ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম ছিল এলাকা। তবে ভোটের ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের উৎফুল্লতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মহকুমার বহু বুথেই বিজেপি তাঁদের পোলিং এজেন্ট বসাতে অসমর্থ হয়েছে। কোথাও আবার এজেন্ট বসলেও ঘণ্টাখানেক পর তাঁরা বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে গেরুয়া শিবিরের কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় জনভিত্তি হারিয়ে বিজেপি এখন দিশেহারা। আর সেই কারণেই পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ ভোটারদের ওপর জুলুমবাজি করছে। তবে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষেরই দাবি, ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোণা তিন বিধানসভাতেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ছিল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। বড় ধরনের কোনো হিংসা বা ছাপ্পাভোটের অভিযোগ ওঠেনি।
তবে দিনভর বিক্ষিপ্ত কিছু উত্তেজনার খবর মিলেছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ঘাটাল বিধানসভার ইড়পালায় ২৬ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দার পরিদর্শনে গেলে তাঁকে ঘিরে ধরে বিজেপির মহিলা কর্মীরা হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। শ্যামলীদেবী জানান, বিষয়টি কমিশনকে জানানো সত্ত্বেও কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি। একই সুরে দাসপুরের তৃণমূল প্রার্থী আশিস হুদাইত অভিযোগ করেন, দাসপুরের ভুতা-বাদশার মোড় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী অকারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে, চন্দ্রকোণার যাদবনগর প্রাথমিক স্কুলের ১০৬ ও ১০৭ নম্বর বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে তৃণমূলের জমায়েত ঘিরে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত দলুইয়ের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের হুমকি দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ফ্লাইং স্কোয়াড বাহিনী সেখানে পৌঁছালেও তৃণমূল নেতৃত্ব যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।
যান্ত্রিক গোলযোগ ও প্রশাসনিক গাফিলতির ছবিও এদিন ধরা পড়েছে ঘাটাল মহকুমার বেশ কিছু জায়গায়। ঘাটাল শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১১৫ নম্বর বুথে ভোট গণনায় গরমিল দেখা দেয়। তৃণমূলের বুথ এজেন্ট দীপক ঘোষাল বলেন, ১০০ জন ভোট দিলেও ইভিএম মেশিনে দেখা যাচ্ছিল ৯৭ জনের ভোট। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়। অন্যদিকে, দাসপুরের সোনামুই গোপীনাথ সংসদ, গৌরা বোর্ড বুথসহ মহকুমার বেশ কয়েকটি বুথে দীর্ঘক্ষণ ইভিএম বিকল থাকায় ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। এদিন পোস্টাল ব্যালট নিয়েও বিভ্রান্তি ঘটে। অনেক সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক, যাঁদের প্রশিক্ষণ হলেও নির্বাচনের ডিউটি পড়েনি, তাঁরা বুথে গিয়ে দেখেন তাঁদের নামে ইতিমধ্যেই পোস্টাল ব্যালট ইস্যু হয়েছে। ফলে দাসপুর বিধানসভার বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থী মৃণালকান্তি মণ্ডল, শিক্ষক চিন্ময় চক্রবর্তী ও কলেজ কর্মী কার্তিক বক্সি সহ কয়েক’শো মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে এদিন কয়েক জন মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে তাঁর দেখা না পেয়ে বিক্ষোভ দেখান।
তবে এসব বিতর্কের মাঝেও উজ্জ্বল ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মানবিক ভূমিকা। অনেক বুথেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কোলে করে বুথে পৌঁছে দেওয়া বা গৃহবধূদের কোলের শিশুকে আগলে রেখে মায়েদের ভোটদানে সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে এই জওয়ানদের। ভোট দেওয়ার পর সেলফি জোনে মহিলা ভোটার। চন্দ্রকোণায় তোলা