সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: আজ, বুধবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি। তবে মাঝপথে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন অনাস্থাকারী সদস্যরা। বড় কোনো পরিবর্তন না হলে অনাস্থাকারী ২৪ সদস্যই ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি এবং এমপির নির্দেশেই ওই ২৪ তৃণমূল সদস্য এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিজেপির হাত মাথায় থাকায় নিবেদিতা মাহাতোর চেয়ার বেঁচে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূলের ২৪ সদস্য দলেরই সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। আজ, বুধবার সেই প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি রয়েছে। তবে ভোটের দু’ দিন আগেই ঝাড়খণ্ডের রিসর্টে গোপন বৈঠকে সব হিসেব উল্টে যায়। জানা গিয়েছে, বিজেপির নির্দেশে বুধবারের ভোটাভুটিতে তৃণমূলের অনাস্থা আনা সদস্যরা কেউ উপস্থিত থাকবেন না। এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নীলাঞ্জনা পট্টনায়ক বলেন, বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি ওই বৈঠকেই অনাস্থা আনা সদস্যদের ভোটে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমপি নিজেই নিবেদিতা মাহাতোকে সভাধিপতি রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তবে প্রায় দেড় মাস সভাধিপতিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সভাধিপতিকে সব সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলার কথা বলেছেন। ওই দিন ঝাড়খণ্ডের রিসর্টে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেই সমস্যার মীমাংসা হয়েছে। তাই ভোটে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই নেই। তিনি আরও বলেন, ওই দিনের বৈঠকে সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অনাস্থা না আনার বিষয়ে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপি নেতারা তা মানতে চাননি। তাই সহ সভাধিপতির অনাস্থার বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের আর এক কর্মাধ্যক্ষ তথা অনাস্থা প্রস্তাব আনার অন্যতম উদ্যোক্তা সুমিতা সিং মল্ল বলেন, এখনই কিছু বলতে পারছি না। যা বলার পরে বলব। এ বিষয়ে জেলা বিজেপির সভাপতি শঙ্কর মাহাতোকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। তবে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা পরিষদ সদস্য সমীর বাউরি বলেন, এখনও কোনো নির্দেশ আসেনি। দল যেমন নির্দেশ দেবে তেমনই করব।