নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হলদিয়ায় ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ১৬৩টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা নিয়ে ফার্স্ট লেভেল চেকিং(এফএলসি) হয়ে গিয়েছে। মহকুমা শাসক মিউনিসিপ্যাল রিটার্নিং অফিসার(এমআরও) হিসেবে নিযুক্ত হবেন। এখন নির্ঘণ্ট প্রকাশের অপেক্ষা। তার আগে যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ সেরে রেখেছে জেলা প্রশাসন। ভোটকর্মীদের ডেটাবেসও রেডি। একটি মহিলা পরিচালিত এবং একটি মডেল বুথ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বর মাসে ৩ কিংবা ৪তারিখ নাগাদ ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। নির্ঘণ্ট প্রকাশ থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ২২দিনের ফারাক থাকতে হয়। সেই হিসেবে দু’-একদিনের মধ্যেই কলকাতা সহ সাত পুরসভায় ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে বলে খবর।
২০২২সালে ৫সেপ্টেম্বর হলদিয়া ও পাঁশকুড়া পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর হলদিয়া পুরসভায় টানা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। পাঁশকুড়ায় প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে মাথায় রেখে পুরপ্রশাসক বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসক নিয়োগ হয়। গত এক বছরের মধ্যে পাঁশকুড়া পুরসভায় মোট ছ’জন প্রশাসক বদল হয়েছেন। এর ফলে পুরসভায় স্বাভাবিক কাজকর্মে ছন্দপতন হয়েছে বলে অভিযোগ। ২০১৭সালে শেষবার ওই দুই পুরসভায় ভোট হয়েছিল। তারপর ন’বছর কেটে গিয়েছে। হলদিয়ায় ভোটের তোড়জোড় শুরু হলেও পাঁশকুড়ায় তা হয়নি। এজন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরব হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রাথমিকভাবে বোর্ডের মেয়াদ ফুরানো কলকাতা, হাওড়া সহ মোট সাতটি পুরসভায় ভোট করাতে উদ্যোগী হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হলদিয়া, পাঁশকুড়া, তমলুক, কাঁথি পুরসভায় বোর্ড নেই। চার জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তবে, ২০২২সাল থেকে টানা চার বছর হলদিয়া ও পাঁশকুড়া পুরসভা বোর্ডহীন।
যদিও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে হলদিয়া পুরসভার ভোট নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হতে চলেছে। সেজন্য সবধরনের প্রস্তুতিও সেরে ফেলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ১৬৩টি বুথ থাকছে। একটি মহিলা এবং একটি মডেল বুথ করা হচ্ছে। সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। ভোটকর্মীদের ডেটাবেসও রেডি। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটের ফার্স্ট লেভেল চেকিং হয়ে গিয়েছে।
পাঁশকুড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা কংগ্রেস নেতা কল্যাণ রায় বলেন, ২০২২সালের ৫নভেম্বর থেকে টানা চার বছর পাঁশকুড়া পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। এজন্য নাগরিকরা ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছেন না। নিয়মিত বিধানসভা থেকে লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে। তাহলে পুরসভা ভোট আটকে রাখা হয়েছে কেন? নতুন সরকার হলদিয়া নিয়ে তৎপর হলে পাঁশকুড়ায় ভোট করাতে অনীহা কেন?
সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যের অনেক পুরসভায় ভোট করাননি। পাঁশকুড়ায় সময়মতো পুরভোট না করিয়ে নাগরিকদের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সার্টিফিকেট পাওয়া থেকে পরিষেবা সবেতেই ভুক্তভোগী হয়েছেন সেখানকার মানুষ। এটা সরকারের খামখেয়ালিপনা ছাড়া কিছু নয়। পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক বিজেপির সিন্টু সেনাপতি বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র সংস্থা। তারা পুরভোট পরিচালনা করে। তারা মেয়াদ ফুরানোর সবকটি পুরসভায় সময়মতো ভোট করাবে। তাদের উপর আমাদের ধৈর্য রাখতে হবে।



