Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিপোর্টেশন আতঙ্কে বিচারাধীন ভোটাররা, বাংলাদেশি চিহ্নিতকরণে আইনি প্রক্রিয়া চান অধীর

মুর্শিদাবাদের লালগোলায় চালু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। যা আক্ষরিক অর্থে ডিটেনশন ক্যাম্প।

ডিপোর্টেশন আতঙ্কে বিচারাধীন ভোটাররা, বাংলাদেশি চিহ্নিতকরণে আইনি প্রক্রিয়া চান অধীর
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের লালগোলায় চালু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। যা আক্ষরিক অর্থে ডিটেনশন ক্যাম্প। অনুপ্রবেশকারীদের এখানেই আটকে রাখা হবে। তারপর বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই এখন ‘ডিপোর্টেশন আতঙ্ক’ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া এবং বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে। ঘটনা হল, মুর্শিদাবাদ জেলায় এই ভোটারের সংখ্যা সব থেকে বেশি।  

Advertisement

তথ্য বলছে, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটার সব থেকে বেশি ছিল মুর্শিদাবাদ জেলাতেই। সংখ্যাটা ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫। জুডিসিয়াল অফিসাররা নথি যাচাইয়ের শেষে জেলাতে অবৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনকে। বাকি ৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৭১ জন ভোটারের নথি বৈধ বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এসআইআর প্রক্রিয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসারে জেলায় মোট বাতিল ভোটারের সংখ্যা সাত লক্ষ ৪৮ হাজারের বেশি। এঁদের মধ্য থেকেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে পুশব্যাক করা হবে—এমন খবর চাউর হতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। এমনকী, অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল। 
বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, ‘ডবল ইঞ্জিনের সরকার এখন। আমরা আগামীদিনে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি রাখব। কত বাংলাদেশি ভারতবর্ষে ঢুকে বসে রয়েছে এবং কোথায় কোথায় তারা রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। আমরাও চাই একজন বাংলাদেশিও যেন এদেশে না থাকে। কিন্তু, সেটা নিশ্চিত করবে কে? হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন সেন্টার যাই বলা হোক, ওখানে কি আইনি ব্যবস্থা থাকবে? নাকি সবকিছুই হবে গা-জোয়ারি?’
একই সঙ্গে অধীরবাবুর সংযোজন, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ পুলিশের শূন্যপদ খালি পড়ে। সিভিক দিয়ে রাজ্য চালাতে হচ্ছে। থানায় লোক নেই। ট্রাফিকে লোক নেই। আগে পুলিশে নিয়োগ হোক। তা না হলে ডিটেনশন সেন্টারে বাংলাদেশি ধরে আনতে এত পুলিশ কোথায় পাওয়া যাবে? আমি প্রতিটি ব্লকে অ্যাপিল ট্রাইবুনাল তৈরির দাবি করেছি। আমি বলে দিলেই যে কাউকেই বিদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। তাদের আইনি সহায়তা দেওয়াও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেটা না হলে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। আমাদের জেলায় সব থেকে বেশি মানুষ ভোটারাধিকার হারিয়েছেন। প্রত্যেক বিচারাধীন ভোটার যেন আইনি সহায়তার সুযোগ পান।’ 
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘রাতারাতি এই হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হল। এটা আসলে ডিটেনশন ক্যাম্প। হোল্ডিং সেন্টার নামকরণ করা হয়েছে। পুলিশ যাকে তাকে আটক করে সেখানে রাখবে। তারপর তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেবে। এই হোল্ডিং সেন্টারের অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রভূত। তাই বাংলাদেশি বলে যাদের আটক করা হচ্ছে, তারা আদৌ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটা আইনের মধ্য দিয়ে বিচার হওয়া প্রয়োজন। আমরাও বরাবরই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে।’
বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, ‘রাজ্য সরকার উপযুক্ত নির্দেশ দিয়েছে। মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা বছরের পর বছর ধরে বেড়ে চলেছে। তৃণমূল সরকার এই বাংলাদেশিদের ভোটে জিতে ক্ষমতা কায়েম করে রেখেছিল। এখন আর কোনো অনুপ্রবেশকারীকে বরদাস্ত করা হবে না। তাদের সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে রেখে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ওদের জন্য আলাদা করে দেশের অর্থ খরচ করে বিচার ব্যবস্থার মধ্যে আনার কি দরকার? লোকাল থানার পুলিশ তাদের নথিপত্র যাচাই করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ