সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে পাওয়া অনুদানের টাকায় উপাচার্যের বাংলো সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন! খরচ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা। এমনই অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতীতে। তোলপাড় শান্তিনিকেতন। ঘটনার তদন্ত চেয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে ই-মেইলে চিঠি পাঠাল এসসি-এসটি, ওবিসি ও সংখ্যালঘু যৌথ মঞ্চ। চিঠির প্রতিলিপি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকেও পাঠানো হয়েছে। বুধবার সংগঠনের তরফে সভাপতি বৈদ্যনাথ সাহা চিঠিটি পাঠিয়েছেন সর্বস্তরে। চিঠিতে উপাচার্যের বাসভবনে বিভিন্ন কাজের খরচের হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ‘মন্ত্রক আমাদের এখনও কিছু জানায়নি। জানালে বা জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ যথাযথ জায়গায় যথাযথ উত্তর দেবে।’
চিঠি অনুযায়ী, ওই অনুদানের টাকায় বাংলো সংস্কারে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। আসবাব ও পর্দার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ভূগর্ভস্থ কেবল বসাতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। ২০ কেভিএ ইউপিএস বসাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। সীমানা প্রাচীর ও ফেন্সিংয়ের কাজে খরচ হয়েছে প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ২০ হাজার ১৭৯ টাকা।
এত টাকা কেন বাংলোয় খরচ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠন। তাদের দাবি, টাকা কোথা থেকে এল এবং কী ভাবে খরচ হল, তা তদন্ত করে দেখা হোক। চিঠিতে বাসভবনে দামি সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। একাধিক টেলিভিশন, ঝাড়বাতি ও বিশেষ ধরনের জলের কল বসানোর কথা বলা হয়েছে। কাচের ছাদ তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। উপাচার্যের বাসভবনে সিসিটিভি বসানোর খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওই কাজে পাঁচ কোটির বেশি টাকা খরচ হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় আট কোটি টাকার অতিরিক্ত উন্নয়ন অনুদান দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই টাকা কোন কাজে দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
উপাচার্যের বাংলো সংস্কারে এত টাকা খরচ করা হলেও বিশ্বভারতীর ছাত্রাবাস, পানীয় জল, রান্নাঘর ও নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ। সেটাও চিঠিতে সবিস্তার উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি বিভাগেও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্যের বাসভবনে প্রচুর টাকা খরচ করা হবে কেন? প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। পুরো ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক হিসাব পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে। টেন্ডার, বিল এবং টাকা মেটানোর নথিও খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে। বৈদ্যনাথবাবু বলেন, ‘ভুবনডাঙার বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ, সরকারি উন্নয়নের টাকা খরচ করে বিলাসবহুল বাংলোয় কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছি আমরা। তবে, যৌথ মঞ্চের তোলা অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়। তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।’