Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি কাজকর্মে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের

বাংলা ভাষাকে সরকারি কাজের প্রধান ভাষা করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বভারতী। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি পরিষেবা সহজ হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

সরকারি কাজকর্মে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের প্রধান ভাষা করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষ, আশ্রমিক ও শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মতে, এতে শুধু যে বাংলা ভাষার মর্যাদা বাড়বে তা নয়, সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা পাওয়া আরও সহজ হবে।

Advertisement

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় ঘোষণা করেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি চিঠিপত্র, নোটিস, নথি এবং নাগরিকদের উত্তর মূলত বাংলা ভাষায় দেওয়া হবে। তবে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দি ভাষাও ব্যবহার করা হবে। 
এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক অমল পাল বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। বাংলা ভাষায় যে সরকারি কাজ করা সম্ভব, তা প্রমাণিত হবে। এভাবে বাংলা ভাষার আরও উন্নতি সম্ভব। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বাংলা করতে গিয়ে শব্দ বা পরিভাষা যেন অযথা জটিল না হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইংরেজি থেকে অনুবাদের ক্ষেত্রে সহজ ও প্রচলিত বাংলা শব্দ ব্যবহার করাই উচিত।
বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও প্রবীণ আশ্রমিক অধ্যাপক সবুজকলি সেন বলেন, এটি অত্যন্ত আনন্দের খবর। মাতৃভাষা দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ। এতদিন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অনেক রাজ্যেই নিজেদের ভাষায় সরকারি কাজকর্ম হতো। ইংরেজি না জানার কারণে বহু মানুষকে অফিসে অন্যের সাহায্য নিতে হতো। এই সিদ্ধান্তে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে। তবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার শিক্ষাও সমানভাবে জরুরি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, আবার অন্য ভাষার গুরুত্বও অস্বীকার করা যাবে না। রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত আমাদের উপর বাধ্যতামূলক নয়। তবুও আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এর ফলে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসার বাড়বে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী পরিষদের বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি ও অনুষ্ঠানের নোটিস বাংলায় প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা সংস্করণও দেওয়া হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, মাতৃভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা চালু হলে সাধারণ মানুষ সরকারি কাজ আরও সহজে করতে পারবেন। বাংলা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলজয়ী কাব্যগ্রন্থ থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাই প্রশাসনে বাংলার ব্যবহার বৃদ্ধি ভাষার মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মত শিক্ষামহলের।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কখনও অন্য ভাষার বিরোধিতা করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, মাতৃভাষার ভিত মজবুত রেখে বিশ্বের জ্ঞানকে গ্রহণ করতে হবে। সেই দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শান্তিনিকেতনের সকলে মনে করছেন, বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি অন্যান্য ভাষা শেখার সুযোগও সমানভাবে বজায় রাখা উচিত। বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী তাঁরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ