Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতী: পুনর্বাসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

ভুবনডাঙার বাঁধের পাড় এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলিকে সম্প্রতি উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে বিশ্বভারতী।

বিশ্বভারতী: পুনর্বাসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: ভুবনডাঙার বাঁধের পাড় এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলিকে সম্প্রতি উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে বিশ্বভারতী। নোটিসে জানানো হয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে বিশ্বভারতীর জমি থেকে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে জায়গা খালি করতে হবে। নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের দাবিতে সোমবার বিকেলে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে শামিল হন এসসি, এসটি, ওবিসি ও সংখ্যালঘু জয়েন্ট ফোরামের সদস্যরা এবং বাঁধের পাড়ের বাসিন্দারা। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। এদিন আন্দোলনের সময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীদের বচসা বাধে। পরে সেই বচসা ধস্তাধস্তির রূপ নিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দু’ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলে। এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, আন্দোলনকারীরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভুবনডাঙার এই ঐতিহ্যবাহী বাঁধ ও জলাশয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বহু বছর ধরে জলাশয়টি কচুরিপানায় ভরে থাকলেও স্থায়ী উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব গ্রহণের পর সংস্কার শুরু হয়। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবি, বাঁধ সংলগ্ন জমির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে বসবাস করছেন কিছু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বভারতীর প্রাক্তন কর্মীদের পরিবারের সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ, ওই এলাকা থেকে ফেলা বর্জ্যের কারণে জলাশয়ের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর জেরে জাতীয় পরিবেশ আদালতের কাছ থেকে আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছে বিশ্বভারতীকে। সেই কারণেই প্রায় ৩২টি পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি এসসি, এসটি, ওবিসি ও সংখ্যালঘু যৌথ মঞ্চের সহযোগিতায় পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনে নামে। এই সংগঠনের সভাপতি বৈদ্যনাথ সাহা বলেন, বিশ্বভারতী সাধারণ মানুষের প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বসবাসকারী তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং বাসিন্দাদের জন্য উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।
ওই এলাকার বাসিন্দা ধীরেন হাজরা ও অঞ্জলি হাজরার বলেন, বহু বছর ধরে আমরা ওখানে বসবাস করছি। হঠাৎ করে ১৫ দিনের মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ