Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটের ডিউটিতে ‘হয়রানি’ অভিযোগ সরব বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠন

নির্বাচনি দায়িত্বে হঠাৎ করে বিশ্বভারতীর বহু শিক্ষককে দূরের জেলায় পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। এবার এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন।

ভোটের ডিউটিতে ‘হয়রানি’ অভিযোগ সরব বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠন
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: নির্বাচনি দায়িত্বে হঠাৎ করে বিশ্বভারতীর বহু শিক্ষককে দূরের জেলায় পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। এবার এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন। আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যাতে এই ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সেই দাবি জানিয়ে শনিবার উপাচার্যের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য ও উদ্বেগ তুলে ধরে ওই সংগঠন। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায় জানান, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ  কমিশনের অধীনে। তাঁদের নির্দেশমতো সকলকে কাজ করতে হয়েছে। তবে আমরা মানবিকভাবে বিষয়টি দেখার জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আর কিছু করার নেই।

Advertisement

অধ্যাপক সংগঠন ই-মেলে অভিযোগের আকারে উল্লেখ করেছেন, শুরু থেকেই অনেক শিক্ষককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্বাচনি কাজে পাঠানো হয়েছে। যাঁরা আগেই একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অব্যাহতির আবেদনও মানা হয়নি। খুব কম সময়ের নোটিসে শিক্ষকদের সোনারপুর ও সাগরদ্বীপের মতো দূরবর্তী এলাকায় যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও গবেষণার কাজেও প্রভাব পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
সংগঠনের মতে, পুরো বিষয়টি হয় প্রশাসনিক অদক্ষতার ফল, নয়তো ক্ষমতার অপব্যবহার। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন। তাঁদের আরও অভিযোগ, অন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের যেখানে এই ধরনের নির্বাচনি দায়িত্বে তেমনভাবে যুক্ত করা হয়নি, সেখানে বিশ্বভারতীর শিক্ষকদেরই বারবার পাঠানো হয়েছে। ফলে তাঁদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগেও নির্বাচনি দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল। গত রবিবার শিক্ষকদের প্রতিনিধি মানস মাইতি ই-মেলের মাধ্যমে উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে ‘অমানবিক চাপ’-এর অভিযোগ জানান। এরপর বিশ্বভারতীর কর্মসচিব নির্বাচন কমিশনের কাছে শিক্ষকদের অব্যাহুতির বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার আবেদন জানান, যদিও তার কোনো সমাধান হয়নি। নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা সবাইকেই দূরবর্তী জেলায় গিয়ে ভোট পরিচালনা করতে হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
অনেককে আবার আগামীকাল সোমবার গণনার কাজেও রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক শিক্ষককে আগে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও পরে তাঁদের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ। এতে বিভ্রান্তি ও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বভারতী ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাঁরা শিক্ষকদের পাশে আছে। এই ধরনের ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে ওই সংগঠন। 
অধ্যাপক সংগঠনের সম্পাদক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মী ও আধিকারিকদের স্বার্থে একটি মানবিক বিষয় তুলে ধরে উপাচার্যকে ই-মেলের মাধ্যমে জানিয়েছি। এই নির্বাচনে তাঁদের যেভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। আগামী দিনে যাতে এই ধরনের হয়রানির মুখে যাতে আর পড়তে না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যই আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ