Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লিতে একাধিক ড্রপগেট, ব্যারিকেড বসাল বিশ্বভারতী, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি এলাকায় ড্রপগেট ও ব্যারিকেড বসানোকে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে।

শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লিতে একাধিক ড্রপগেট, ব্যারিকেড বসাল বিশ্বভারতী, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি এলাকায় ড্রপগেট ও ব্যারিকেড বসানোকে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে। এই নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সোমবার বীরভূমের জেলাশাসকের কাছে ইমেলে একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তায় নিরাপত্তারক্ষী সহ একাধিক ড্রপ-ডাউন গেট বসাতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে কিছু রাস্তায় স্থায়ী বাসের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অন্তত সাতটি স্থানে এই ধরনের গেট ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগে যেসব রাস্তায় সহজে চলাচল করা যেত, এখন সেখানে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়িকেও দীর্ঘ ঘুরপথ নিয়ে যেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর পূর্বপল্লির পৌষমেলার মাঠ ঘিরে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই প্রথম বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এরপর একাধিক জায়গায় ড্রপ-ডাউন গেট বসানো নিয়েও অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন আগেই দমকল অফিস সংলগ্ন শান্তিনিকেতনমুখী একটি রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন স্থানীয়রা। এবার পূর্বপল্লির ভিতরে রাস্তা নিয়ন্ত্রণের ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। যদিও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার প্রসঙ্গে চলতি মাসের ১১ তারিখে একটি সাংবাদিক বৈঠকে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ জানিয়ে ছিলেন, কোয়ার্টারে চুরির ঘটনা রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, এইসব রাস্তাগুলি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করছে। এমনকি, মানচিত্রে চিহ্নিতও রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জনসাধারণের চলাচলের পথ ইচ্ছামতো বন্ধ করা আইনসম্মত নয় বলেই মত বাসিন্দাদের। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট আইনের ধারা প্রয়োগের কথাও উল্লেখ করে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাঁরা দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে শান্তিনিকেতন–বোলপুরের বাসিন্দাদের নিরাপদ ও অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চন্দনা দে জানান, আমাদের পূর্বপল্লির বিভিন্ন দিকে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমরা যেন একটা খাঁচার মধ্যে রয়েছি। জরুরি কাজে যেতে হলে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই বিশ্বভারতী কেন এমন করল জানি না। আমাদের এইসব এলাকায় অনেক প্রবীণ নাগরিক ও অসুস্থ মানুষ আছেন। তাঁদের জন্য সবচেয়ে বেশি অসুবিধা। আমরা চাই দ্রুত এইসব বন্ধ রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরে আসুক। যদিও এই বিষয় নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের যাতায়াতের বিকল্প রাস্তাও রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ