Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বিরাট বিদায়, অবসর টেস্ট থেকে

গত বুধবার টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ছ’দিন কাটতে না কাটতে একই পথের পথিক বিরাট কোহলিও।

বিরাট বিদায়, অবসর টেস্ট থেকে
  • ১৩ মে, ২০২৫ ১৬:০৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বুধবার টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ছ’দিন কাটতে না কাটতে একই পথের পথিক বিরাট কোহলিও। লাল বলের ফরম্যাটকে আলবিদা জানালেন ভিকে। তাই ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে  ১২ মে, ২০২৫ লেখা থাকবে ‘বিরাট বিদায়’ অধ্যায় নামে। বলাই বাহুল্য, জোড়া ইন্দ্রপতনে ভারতীয় টেস্ট দল আচমকাই অভিভাবকহীন। তবে দুই মহাতারকার টেস্ট অবসরের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য একেবারেই ভিন্ন। রোহিতের বিদায় যেন বোর্ডের লাইন মেনে। কখনও কখনও বিসিসিআই কর্তাদের কথাবার্তায় স্পষ্ট হয়েছে, গলা থেকে কাঁটা নামল। কিন্তু কোহলির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একেবারেই উল্টো। তবে কোহলি টেস্ট থেকে অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন আগেই। সেটা জানার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছিল বিসিসিআইয়ে। বোর্ড কর্তারা কিছুতেই চাইছিলেন না, ইংল্যান্ড সফরের আগে কোহলি অবসর নিন। তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ঠেকানো গেল না টেস্ট অবসর। সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিকে’র বিদায়ী বার্তা, ‘চোদ্দ বছর আগে প্রথম নীল ব্যাগি টুপি পরে টেস্ট খেলেছিলাম। সত্যি বলতে কী, বুঝতে পারিনি এই ফরম্যাট আমাকে এতটা এগিয়ে দেবে। লাল বলের ক্রিকেট প্রতি মুহূর্তে পরীক্ষা নিয়েছে। তিল তিল করে গড়ে তুলেছে, দিয়েছে শিক্ষাও, যা সারা জীবন মনে রাখব। সাদা পোশাকে খেলার মধ্যে জড়িয়ে থাকে কিছু ব্যক্তিগত গভীর বিষয়। শান্ত পরিবেশ, সারাদিন ধরে খেলা, ছোট ছোট মুহূর্তগুলো অনেকেই দেখতে পান না। তবে এগুলোই চিরকাল থাকবে আমার সঙ্গে। এই ফরম্যাট থেকে সরে যাওয়া সহজ ছিল না। তবু এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। সব সময় হাসি মুখে নিজের টেস্ট জীবনের দিকে ফিরে দেখব। ২৬৯ নম্বর টুপির যাত্রা শেষ হল।’

Advertisement

টেস্ট ক্রিকেট যখন তিনি এতই ভালোবাসতেন, তাহলে এত তাড়াতাড়ি ছাড়লেন কেন? অনায়াসেই তিনি খেলে দিতে পারতেন আরও কয়েকটা বছর। আরও একটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল জেতার টার্গেট সেট হতেই পারত সহজেই। খোদ বিসিসিআই কর্তারা সেটাই চাইছিলেন। তবুও কোহলি সিদ্ধান্তে অনড়।
শচীন পরবর্তীযুগে ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হয়ে উঠেছিলেন ভিকে। তাঁকে দেখার জন্য ক্রিকেট জনতার ঢল নামত গ্যালারিতে। ১২৩ টেস্টে ৯২৩০ রানের মালিক তিনি। গড় ৪৬.৮৫। নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬৮ টেস্টে। তার মধ্যে ৪০টি’তে জয়। এর পরেও জুটেছে সমালোচনা। সব কিছু মেনেই চোয়ালচাপা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ‘চিকু’। গৌতম গম্ভীর কোচ হওয়ার পর ড্রেসিং-রুম থেকে তারকা সংস্কৃতির অবলুপ্তি ঘটিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কোহলির অম্লমধুর সম্পর্ক কারও অজানা নয়। তাই ‘ভাবগম্ভীর’ পরিবেশে হয়তো নিজেকে আর বয়ে নিয়ে যেতে চাননি বিরাট। 
তিনি যেন সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। অবসর প্রসঙ্গে সুনীল গাভাসকরের সেই মন্তব্য পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ‘তুমি তখনই অবসর নাও যখন তোমায় সবাই প্রশ্ন করবে কেন?’ সানির দেখানো পথকেই বেছে নিলেন বিরাট। আগে ছেড়েছিলেন টি-২০ ক্রিকেট। এবার বিদায় জানালেন টেস্টকে। খেলবেন ওডিআই শুধুই। মিশন—২০২৭ বিশ্বকাপ!

সম্পর্কিত সংবাদ