Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে বিরাটরা

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে বিরাটরা
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুবাই: রাত পোহালেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। দুবাইয়ে ভারত-নিউজিল্যান্ড দ্বৈরথ ঘিরে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। ২০১৩ সালের পর এই আসরে ট্রফি জেতেনি টিম ইন্ডিয়া। ২০১৭ সালে ফাইনালে হারতে হয় পাকিস্তানের কাছে। আর নিউজিল্যান্ড একবারই জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ২০০০ সালে তারা ফাইনালে হারিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলির ভারতকে। কিউয়িরা এখনও পর্যন্ত দু’বার আইসিসি ট্রফি জিতেছে। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছাড়াও তারা পেয়েছে ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই ফাইনালে নিউজিল্যান্ড হারায় বিরাট কোহলির দলকে। অর্থাৎ, দু’বারই ফাইনালে ভারতের স্বপ্নভঙ্গ ঘটায় ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’রা। রবিবার রোহিত শর্মার দলের সামনে সেই দুই পরাজয়ের বদলা নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

Advertisement

তবে আর একটা পরিসংখ্যানও ভারতের বিরুদ্ধে রয়েছে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হোক বা ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপ, রবিবারই হয়েছিল ফাইনাল ম্যাচ। আর হেরেছিল টিম ইন্ডিয়া। এই দু’বারই গ্রুপ পর্বে যথাক্রমে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়াকে বশ মানায় ভারত। কিন্তু সেই দু’দলের কাছেই হারতে হয় ফাইনালে। এবারও গ্রুপের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আর ফাইনালও সেই রবিবারেই। ফলে দুরু দুরু আশঙ্কা থাকছেই।  
ক্রিকেট মহলে অনেকেই অবশ্য মনে করছেন, একই মাঠে টানা খেলার সুবিধা পাচ্ছে ভারত। পেসার মহম্মদ সামিও তা স্বীকারও করেছেন। উইলিয়ামসনদের বিরুদ্ধে ফাইনালে খেলা হবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পিচে। ২৩ ফেব্রুয়ারি সেই মহারণের পর এই বাইশ গজে আর খেলা হয়নি। তা সত্বেও পিচের চরিত্রে খুব একটা বদলের সম্ভাবনা নেই। মন্থর পিচে যথারীতি দাপট থাকবে স্পিনারদেরই। চার স্পিনারের ফর্মুলায় ফের বাজিমাতের আশায় ভারত। তাছাড়া, দুবাইয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ওডিআই ম্যাচ হারেনি ‘মেন ইন ব্লু’। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে অপরাজিত ছিল টিম ইন্ডিয়া। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে রোহিত বাহিনী।
পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রান তাড়ায় ভারতের জয় নিশ্চিত হয়েছে বিরাট কোহলির ব্যাটে। চার ম্যাচে ৭২.৩৩ গড়ে ২১৭ রান করেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ফাইনালেও তাঁর দিকে তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা। অনেকেই এই দ্বৈরথকে চিহ্নিত করছেন কোহলি বনাম উইলিয়ামসনের মহারণ হিসেবে। তবে চলতি আসরে কিউয়ি তারকার (১৮৯) চেয়ে মোট রানে এগিয়ে ভিকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের হাতছানিও তাঁর সামনে। ক্রিস গেইলের (১৭ ম্যাচে ৭৯১ রান) ঠিক পিছনেই কোহলি (১৬ ম্যাচে ৭৪৬ রান)। গত চারটি আইসিসি ইভেন্টেই ম্যাচের সেরা হয়েছেন তিনি। ২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপে দু’বার, ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপে একবার এবং ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে একবার ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন তিনি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দু’বার ম্যাচের সেরা হয়েছেন বিরাট। ফলে, ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়ার জোরালো দাবিদারও তিনি। ভারতের শুভমান গিল, শ্রেয়স আয়ারও রয়েছেন এই লড়াইয়ে।
এদিন ভারতের অনুশীলনে অবশ্য সবার আগে নেটে আসেন লোকেশ রাহুল। তারপর গা ঘামান বাকিরা। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ধরা দিলেন কোহলিরা। রোহিতের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর ক্রিকেটাররা। এর মধ্যেই ক্যাপ্টেনের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত শুনিয়েছে কোচ গৌতম গম্ভীরকে। তিনি বলেছেন, ‘ওর সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। ও মানুষ হিসেবেও দুর্দান্ত। তারজন্যই নেতা হিসেবে এত সফল। আইপিএল বারবার জেতা, টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার নেপথ্যে এটাই কারণ। তবে ওগুলো এখন ইতিহাস। আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। আশা করব ফাইনালে ব্যাটসম্যান ও ক্যাপ্টেন হিসেবে রোহিত ওর সেরা ফর্মে থাকবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ