চেন্নাই: আইপিএলে আজ দক্ষিণী ডার্বি। চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অনেকে আবার এই ম্যাচকে ধোনি-কোহলির দ্বৈরথ হিসেবেও দেখছেন। পরিসংখ্যানের নিরিখে সিএসকে অনেক এগিয়ে। ঘরের মাঠ চিপকে আটবারের মধ্যে আরসিবি’র কাছে একবারই হেরেথে হলুদ-ব্রিগেড। তাও ২০০৮ সালে। তাই মিথ ভাঙাই চালেঞ্জ বিরাটদের।
চেন্নাই সুপার কিংস পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন। বিপুল দর্শক সমর্থনও থাকবে ধোনিদের পক্ষে। তবে এবারের আইপিএলে আরসিবি দারুণ ছন্দে। উদ্বোধনী ম্যাচে ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে সহজেই বশ মানিয়েছিলেন রজত পাতিদাররা। স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটারদের মনোবল তুঙ্গে। আরসিবি’র ব্যাটিং অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে ফিল সল্ট যোগ দেওয়ায়। পাওয়ার প্লে’তে দ্রুত গতিতে রান তোলার সুনাম রয়েছে এই ইংরেজ ব্যাটারের। তবে চিপকের পিচ মন্থর। স্পিনাররা সুবিধা পায়। নুর আহমেদ, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিনের বিরুদ্ধে সল্টরা কতটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সক্ষম হবেন, সেটাই দেখার।
বেঙ্গালুরুর ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা বিরাটই। তিনি ছন্দে থাকা মানে ঝলমলে স্কোরবোর্ড। চার-ছক্কার দিকে বেশি না ঝুঁকে ধীরে ধীরে বড় ইনিংস গড়ে তোলাই পছন্দ ভিকের। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ইডেনে। তাই সল্ট শুরুটা ধুন্ধুমার করতে পারলে কোহলিকে পাওয়া যেতে পারে চেনা মেজাজে। তারপর রয়েছেন বাঁ-হাতি দেবদূত পাদিক্কাল ও রজত পাতিদার। মিডল অর্ডারে লিয়াম লিভিংস্টোন ও জীতেশ শর্মা ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ। টিম ডেভিড ও ক্রুণাল পান্ডিয়াও ব্যাট হাতে খুবই কার্যকরী।
উল্টোদিকে, চেন্নাইয়ের টপ অর্ডার বেশ শক্তিশালী। রাচীন রবীন্দ্র গত ম্যাচে ৬৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছিলেন। এছাড়া ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, শিবম দুবে, দীপক হুদারা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেন আরসিবি বোলারদের। চেন্নাই এই ম্যাচে রাহুল ত্রিপাঠিকে রাচীনের সঙ্গে ওপেন করতে পাঠায় কিনা, সেটাই দেখার। এছাড়া আছেন স্যাম কারান, রবীন্দ্র জাদেজার মতো অলরাউন্ডারও।
তবে দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন ধোনির ব্যাটিং দেখার জন্য। গত ম্যাচে মাত্র দু’বল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তাতেও শব্দব্রহ্ম তৈরি হয়েছিল গ্যালারিতে। আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ধোনি কিন্তু ক্রিকেট জনতার হৃদয় জুড়েই রয়েছেন, বিশেষ করে সিএসকে সমর্থকদের। বয়স বাড়ায় রিফ্লেক্স কিছুটা কমেছে ঠিকই, তবে ধোনি এখনও উইকেটের পিছনে দারুণ চনমনে। গত ম্যাচে দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে তাঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। কাগজে-কলমে ঋতুরাজ চেন্নাইয়ের অধিনায়ক ঠিকই, কিন্তু সবাই জানেন রিমোট কার হাতে। দল বিপাকে পড়লেই ধোনির মগজাস্ত্র বাতলে দেবে কামব্যাকের উপায়। আর তাতেই আরও একবার ঘরের মাঠে কোহলিদের বশ মানাতে তৈরি সিএসকে।