দুবাই: পাকিস্তানের পর সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া। দুটো ম্যাচেই দুরন্ত ইনিংসে ভারতকে জয়ের স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছেন বিরাট কোহলি। রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি রেকর্ড ভাঙতে পারেন তিনি। যেমন আর ৪৫ রান করলেই ক্রিস গেইলকে (৭৯১) টপকে এই টুর্নামেন্টে সর্বাধিক রানের মালিক হবেন ভিকে। ৫৫ পেরলে একদিনের ইতিহাসে মোট রানে সাঙ্গাকারাকে (১৪২৩৪) পিছনে ফেলে উঠে আসবেন দ্বিতীয় স্থানে।
শনিবার অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পেয়েছেন ‘চেজমাস্টার’। প্রচণ্ড জোরে বল লাগে তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেন তিনি। দৌড়ে আসেন সাপোর্ট স্টাফরা। স্প্রে করা হয় হাঁটুতে। কোহলির চোট অবশ্য গুরুতর নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ট্রেনিং সেশনের শেষ পর্যন্ত আইসিসি অ্যাকাডেমিতেই ছিলেন। অধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে ১৫ মিনিট ধরে আলোচনা করতেও দেখা যায় তাঁকে। ঘণ্টাখানেক নেটে ব্যাটও করেন তিনি। তাই ফাইনালে কোহলির মাঠে নামা নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ফলে স্বস্তি ফেরে ভারতীয় শিবিরে।
পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বপ্নপূরণ হয়নি। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বশ মানে রোহিত শর্মার দল। স্বপ্নভঙ্গের সেই যন্ত্রণা থেকে শিক্ষা নিয়ে রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারত। চাপের মুখে সেরাটা মেলে ধরার সঙ্কল্পই সঙ্গী হচ্ছে শিবিরে। সেটাই বড় দলের বৈশিষ্ট্য। সহ-অধিনায়ক শুভমান গিল বলেছেন, ‘বড় ম্যাচে আলাদা চাপ থাকে। ২০২৩ সালের ফাইনালে আমরা চাপ সামলাতে পারিনি। তবে এবার তা হবে না। এমন ম্যাচে চাপকে জয় করাই জেতার মন্ত্র। অতীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলগুলো নক-আউটেই সেরাটা মেলে ধরেছে। আমাদেরও তেমন মানসিকতা দেখাতে হবে।’
ভারতীয় দলের ব্যাটিং শক্তি নিয়ে উচ্ছ্বসিত গিল। ফাইনালের আগের দিন অধিনায়ক রোহিতের সঙ্গে আগেই মাঠে চলে এসেছিলেন সহ-অধিনায়ক। ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক ও সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের তত্ত্বাবধানে থ্রো-ডাউন বিশেষজ্ঞদের সামনে দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করেন তাঁরা। গিল বলেছেন, ‘এমন শক্তিশালী ব্যাটিং আমার খেলা কোনও ভারতীয় দলে ছিল না। রোহিত বিশ্বের সেরা ওপেনারদের অন্যতম। কোহলিকে নিয়েও কিছু বলার নেই। দলের ব্যাটিং লাইন-আপ এতটাই গভীর যে, টপ অর্ডার অনেক বেশি খোলা মনে খেলতে পারে। আর রোহিত-বিরাটের অবসর নিয়ে কোনও আলোচনা দলে হয়নি।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে দুবাইয়ে। চাঙ্গা বেটিংয়ের বাজারও। শোনা যাচ্ছে, এই ম্যাচ ঘিরে ৫ হাজার কোটি টাকার বেটিং হতে পারে। বুকিদের কাছে ভারতই ফেভারিট। সূত্র অনুসারে, সক্রিয় হয়ে উঠছে দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি কোম্পানি’। ভারতেও বেটিং চক্রগুলি নড়েচড়ে বসেছে। পুলিস তাই সজাগ।