Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নাইটদের ডেরায় বিরাট-উন্মাদনা, ইডেনে নতুন ব্যাটে মহড়া কোহলির

রাঙা বিকেলে ক্লাব হাউসের ডানদিকে নেটে জোর কদমে চলছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অনুশীলন। কুইন্টন ডি’কক, সুনীল নারিনরা নকিংয়ের পর বিশ্রাম নিচ্ছেন।

নাইটদের ডেরায় বিরাট-উন্মাদনা, ইডেনে নতুন ব্যাটে মহড়া কোহলির
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: রাঙা বিকেলে ক্লাব হাউসের ডানদিকে নেটে জোর কদমে চলছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অনুশীলন। কুইন্টন ডি’কক, সুনীল নারিনরা নকিংয়ের পর বিশ্রাম নিচ্ছেন। অন্যদিকে সবে নেমেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দেখে মনে হল অপশনাল। অনেকেই ছিলেন না। কিন্তু তা নিয়ে কারও হেলদোল নেই। সবাই খুঁজছেন একজনকে— তিনি বিরাট কোহলি। ইডেনের ঘড়িতে সওয়া ছ’টা। ড্রেসিং-রুম থেকে বেরিয়ে এলেন ভিকে। হাতে তিনটি ব্যাট। তার মধ্যে দু’টি নতুন। ব্যাটগুলো বগলদাবা করে কিটস ব্যাগ টানতে টানতে ঢুকে পড়লেন অনুশীলনে। ইডেনের সবুজ গালিচায় কোহলির ল্যান্ডিং টের পেল সব্বাই, নাইট রাইডার্স শিবিরও। ‘এল’ ব্লক এবং ‘বি’ ব্লকের গ্যালারি খুলে দেওয়া হয়েছিল প্র্যাকটিস দেখার জন্য। টিকিটের যা হাহাকার, তাতে অনেকেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে বৃহস্পতিবার হাজির হয়েছিলেন ইডেনে। কিন্তু নাইটদের দিকে তেমন ভিড় চোখে পড়ল না। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে আরসিবি’র নেটের পিছনে। কোহলি নেটে ঢুকতেই গর্জে উঠল ক্রিকেট জনতা। এ যেন শনিবারের মহারণের টিজার। কোহলি একটা করে শট মারছেন, আর উদ্বেল হয়ে উঠছেন অনুরাগীরা। তা দেখে থমকে দাঁড়ালেন রাসেল ও বরুণ। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাঁরা দেখলেন কোহলিকে। উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁদের পয়লা নম্বর ‘শত্রু’ বলে কথা! আসলে ক্রিকেট জনতা হোক কিংবা প্রতিপক্ষ, সবার নজরেই কোহলি। তাঁর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার সামনে বাকি সবই ফিকে। গতবার শাহরুখ খানকে দেখা গিয়েছিল কেকেআরের প্র্যাকটিসে। গৌতম গম্ভীরের উপস্থিতিও টের পাওয়া যেত। এবার সেরকম কিছুই নেই। বরং উদ্বোধনী ম্যাচের আগে নাইটদের ডেরায় স্রেফ বিরাট উন্মাদনা।

Advertisement

টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার পর এই ফরম্যাটকে আলবিদা জানিয়েছিলেন ভিকে। তা নেহাতই সময়ের দাবি। তবে প্র্যাকটিসে কোহলিকে দেখে মনে হল, তিনি পরের বছর ঘরের মাঠে টি-২০ বিশ্বকাপটা অনায়াসেই খেলে দিতে পারতেন। এটা তাঁর ১৮তম আইপিএল। অনেকের কাছে ব্যাপারটা একঘেয়েমি হতে পারত। কোহলির কাছে প্রতিটা দিনই নতুন। ভালো কিছু করার তাগিদই তাঁকে নতুন প্রাণের সন্ধান দেয়। যেখানে রোহিত, ধোনিদের ক্যাবিনেটে পাঁচ-পাঁচটা আইপিএল ট্রফি, সেখানে কোহলির ঝুলি শূন্য। চাইলে অনেক আগেই তিনি দল বদলে ফেলতে পারতেন। নিতে পারতেন আইপিএল থেকেও অবসর। কিন্তু কোনওটাই করেননি। এখনও মাটি কামড়ে পড়ে আছেন এই আশায় যে, এবার হয়তো ধরা দেবে আইপিএল খেতাব।
বহু লড়াইয়ের পোড় খাওয়া সৈনিক কোহলি। তিনি জানেন, শুরুটা ভালো হলে গাড়ি গড়গড়িয়ে চলবে। আর তার জন্য তাঁকেই ধরতে হবে হাল। তাই রানের খোঁজে ভিকে। থ্রো-ডাউনে কিছুক্ষণ নকিংয়ের পর ঢুকে পড়লেন মূল পিচের পাশের নেটে। চলল পেসারদের বিরুদ্ধে মহড়া। ভুবিদের কিছুটা রেয়াত করলেও হ্যাজলউডকে তুলে তুলে মারলেন। আসলে অজিদের দেখলেই মনে হয় তাঁর রক্ত গরম হয়ে যায়। এখানেই থামেননি ভিকে। ঘণ্টা খানেক ব্যাটিংয়ের পর অংশ নিলেন ফিল্ডিং অনুশীলনে। দফায় দফায় চলল কোচের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা। কাগজে কলমে রজত পাতিদার অধিনায়ক হলেও তিনিই যে আরসিবি’র আসল ‘ক্যাপ্টেন’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ