কানসাস সিটি: সুইৎজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতেই লাওতারো ছুটলেন গ্যালারিতে। অনুরাগীদের সঙ্গে সেলিব্রেশন সেরে এসে জড়িয়ে ধরলেন লায়োনেল মেসিকে। মহাতারকার দু’চোখেও তখন জল। আর মুখে অদ্ভুত প্রশান্তি। কঠিন যুদ্ধ জয়ের পর সেনাপতির অবস্থা যেমন হয় আর কী! হ্যাঁ, যুদ্ধই বটে! ১০ জনের সুইৎজারল্যান্ডও নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আসে ৩-১ ব্যবধানে জয়। রেফারির বাঁশি বাজতেই কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নেচে গেয়ে আবেগের সাগরে ভাসলেন মেসিরা। ড্রেসিং-রুমে ফেরার পথে সংবাদমাধ্যমকে বাঁ পায়ের জাদুকর বলছিলেন, ‘আবারও বুক চিতিয়ে লড়াই করলাম। এই দল কখনও বিশ্বাস হারায় না।’ একটু থেমে মেসির সংযোজন, ‘আমাদের এই গ্রুপ যা করে দেখিয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপ জয়, দু’বার কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন। তারপর আবারও বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠা! আমরা যখনই অসাধারণ কিছু করি, মাঠে উদযাপন করি। এদিন যেমন করলাম।’
আর্জেন্তিনা দলের মূল চালিকাশক্তি মেসি। মাঠের মধ্যেও যোগ্য ক্যাপ্টেন তিনি। শান্ত স্বভাবের মেসি প্রয়োজনে রণংদেহী মূর্তিও ধারণ করতে পারেন। এদিন ম্যাচ চলাকালীন যেমন পর্তুগালের রেফারি পিনেইরোকে কড়া ভাষায় বললেন, ‘আমি আপনাকে সম্মান দিচ্ছি। আপনিও সম্মান দিয়ে কথা বলবেন।’ আর ম্যাচ প্রসঙ্গে লিও’র মন্তব্য, ‘জানতাম, কঠিন হবে লড়াই। শেষপর্যন্ত জয় এসেছে এটাই স্বস্তি। সেমি-ফাইনালে আরও শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হব। তার আগে ক্লান্তি কাটিয়ে সেরা ফর্মে আসাই লক্ষ্য।’ উল্লেখ্য, অতীতে মেসি কখনও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি। প্রথমবার থ্রি-লায়ন্সদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার জন্য রীতিমতো মুখিয়ে মহাতারকা। তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে এই ম্যাচটা স্পেশাল হতে চলেছে। কেরিয়ার জুড়ে প্রায় সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই খেলেছি। শুধু বাদ থেকে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার সেমি-ফাইনালের মতো বড়ো মঞ্চে তাদের বিরুদ্ধে খেলব। সেরাটা মেলে ধরতে প্রস্তুত। সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, ইংল্যান্ডও দারুণ ছন্দে আছে।’ পরে ইনস্টাগ্রামেও সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন লিও। কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমরা আবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে। চল, এগিয়ে যাই।’
দল সেমি-ফাইনালে ওঠায় উচ্ছ্বসিত কোচ লায়োনেল স্কালোনিও। তিনি বলেন, ‘২০২২ বিশ্বকাপে আমরা অভিজ্ঞ ছিলাম না। নিজের ক্ষেত্রেও সেই বলব। কিন্তু এখন সবাই পরিণত। তাই প্রতিপক্ষ সমতা ফেরালেও সংযম হারাই না। দল জানে, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থাকতে হয়। আমরা হাল ছাড়ার পাত্র নই।’