সংবাদদাতা, বোলপুর: শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শান্তিনিকেতনের অলিগলিতেই কি এবার বাসা বাঁধছে মাদকের কারবার? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো ঘিরে সেই প্রশ্নই উঠছে। শুক্রবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ঘুরছে। সেখানে একটি ক্যাফেতে বসে দু’জন যুবককে গাঁজার নেশা করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। তবে ভিডিয়োটি সামনে আসার পরই বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় নেশার সামগ্রী কেনাবেচা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৌশল বদলে গাঁজা বিক্রি করা হচ্ছে। এই মাদকের কারবারে সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও ‘পাতা’, ‘খাবার’ কোথাও আবার ‘প্রসাদ’ বা ‘কাকা’ নামে বিক্রি হচ্ছে। নির্দিষ্ট সংকেত জানলেই না কি বোঝা যায়, কী চাইছে ক্রেতা। সেইমতো পৌঁছে যায় নেশার সামগ্রী। শুধু গাঁজা নয়, বোলপুর শহরে ব্রাউন সুগার সহ নিষিদ্ধ মাদক কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে। ‘পাউডার’, ‘প্যাকেট’ এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। ফোনে যোগাযোগ করলে নির্দিষ্ট জায়গায় মাদক পৌঁছে যাচ্ছে। নেশার কারবারি ও ক্রেতাদের আলাদা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে বলে অনেকের আশঙ্কা।
শান্তিনিকেতনের পর্যটন কেন্দ্রগুলির আশপাশে ও বিশ্বভারতী সংলগ্ন এলাকায় এই কারবার চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে রতনপল্লি, শ্যামবাটি, পূর্বপল্লি, গুরুপল্লি সহ বিশ্বভারতীর আশপাশের এলাকায় নেশার সামগ্রী কারবারের অভিযোগ রয়েছে। বোলপুর স্টেশন সংলগ্ন কিছু এলাকাতেও অতীতে নেশার সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর মাদক কারবার রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে নতুন সরকার। পুলিশের তরফেও একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। বোলপুর ও শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে। নেশার সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারপরও অভিযোগ থামছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোথাও পুলিশি অভিযান হলে কিছুদিনের জন্য কারবার বন্ধ থাকে। পরে অন্য এলাকায় শুরু হয়। কৌশল বদলে যায়। বদলে যায় যোগাযোগের সংকেত। ফলে নেশার কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। শান্তিনিকেতনের মতো শিক্ষাক্ষেত্রে সহজে নেশার সামগ্রী পাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে অভিভাবকদের একাংশ।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। কোথাও মাদক কেনাবেচার নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে মাদক বিক্রির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।



