নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুর ও লালবাগ শহরের বড় বড় পুজো মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে গেলে লম্বা লাইন দিতে হয়। একটি বড় পুজো মণ্ডপের ঠাকুর দেখে বেরিয়ে আসতে কম করে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অষ্টমীর ও নবমীর সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পুজো দেখতে ঠায় দাঁড়িয়ে নাজেহাল হতে হয় মানুষকে। বহু ক্ষেত্রেই পুজো উদ্যোক্তারা মোটা টাকার বিনিময়ে ভিআইপি গেট দিয়ে দর্শকদের ঢোকার ব্যবস্থা করে দেন। কিছু পুজো কমিটি সরাসরি ঠাকুর দেখার এই ভিআইপি পাস ২০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করে। আবার কোথাও দর্শকদের লটারি কিনিয়ে পুরস্কার দেওয়ার টোপ দিয়ে ঘুরপথে পুজোর ভিআইপি পাস বিক্রি করেন উদ্যোক্তারা। লাকি ড্র, পুজো বাম্পার লটারি, ভাগ্য পরীক্ষা এমন নানা নামের লটারি বিক্রি করে ঘুরপথে পুজো দেখার পাস বিক্রি করা হয়। তবে এবার পুজোয় এমন ধরনের পাস কিংবা লটারির টিকিট বিক্রি করতে পারবে না ক্লাবগুলি। এসব বন্ধের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, কোনো পুজো কমিটি লটারি ও ভিআইপি পাস ইস্যু করতে পারবে না। প্রত্যেককে লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখতে হবে। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করে আমরা এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছি। চেক বিতরণের অনুষ্ঠানেও বারবার সাবধান করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে রাস্তায় যথেষ্ট সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখতে বলা হয়েছে। পুজোর সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। সাধারণ মানুষকে নিঃশঙ্ক চিত্তে উৎসব উপভোগ করতে বলেছেন জেলা পুলিশ আধিকারিকরা। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ যাতে বিভ্রান্তিকর কোনো পোস্ট করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি না দেয়, সেদিকেও পুলিশ নজর রাখবে। পুজোর সময় সারারাত রাস্তায় এবং পুজো মণ্ডপে দু’টি শিফটে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বহরমপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সুষ্ঠুভাবে মানুষ যাতে উৎসব উদযাপন করতে পারে, সেজন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজোর ক’টা দিন বিকেল থেকে পুজো মণ্ডপে এবং রাস্তায় থাকবে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। রাত ১২টা থেকে নতুন পুলিশ দল পথে নামবে। ফলে ভোর পর্যন্ত রাস্তায় এবং পুজো মণ্ডপে পুলিশ থাকবে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় প্রায় তিন হাজার পুজো হয়। তার মধ্যে একশোর বেশি পুজো কমিটি জাঁকজমক সহকারে পুজো করে। তাদের প্রায় প্রত্যেকেই সরকারি অনুদান পাচ্ছে। জঙ্গিপুর, লালবাগ, কান্দি, ডোমকল ও বহরমপুর সদর প্রতিটি মহকুমায় চেক বিতরণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় থানা থেকেই পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনুদান পেয়েও যদি কোনো উদ্যোক্তা ঠাকুর দেখার পাসের ব্যবস্থা করে তাহলে তারা সমস্যায় পড়বে। প্রায় প্রতি বছরই পুলিশ পুজোর পাসের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু তারপরও ভিআইপি পাস দেয় বেশকিছু উদ্যোক্তা। এবার এই রেওয়াজ বন্ধ করতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে পুলিশ। এখন দেখার, পুজোর দিনগুলিতে এই লটারি বা ভিআইপি পাসের নিষেধাজ্ঞা উদ্যোক্তারা আদৌ মানে কি না।



