নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিব, পার্বতী, নারায়ণ সহ দেবদেবীর প্রায় ৭৫০ মূর্তি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দির। এখানেই বসবে শিব ও পার্বতীর বিয়ের আসর। পুজোয় চম্পাসারিতে এমন ঐতিহাসিক মন্দির নির্মাণ করছে জাতীয় শক্তি সংঘ। এর বাইরে নিবেদিতা রোডে নবাঙ্কুর সংঘ ও গ্রন্থাগারের পুজোর থিম-‘লোক ঐতিহ্য’। এখানে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গ্রাম তুলে ধরা হবে। আর মহানন্দা নদীর পাড়ে গুরুংবস্তিতে তৈরি হচ্ছে ভারত মাতার আদলে মণ্ডপ। তাতে ঠাঁই পাবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূর্তি। তিনটি পুজোর উদ্যোক্তাদেরই প্রত্যাশা, মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে।
শিলিগুড়ি শহরের বিগবাজেটের পুজো কমিটিগুলির মধ্যে চম্পাসারির জাতীয় শক্তি সংঘ অন্যতম। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুজোয় ইতিহাস ও বাস্তব নির্ভর থিমের ভিত্তিতে মণ্ডপ সজ্জা করে। এবার পুজোর ৪৪তম বর্ষে তাদের নিবেদন তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী মন্দির।
মণ্ডপ শিল্পী সঞ্জয় হোড় বলেন, বাঁশ, কাঠ, প্লাইবোর্ড দিয়ে এই মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। মণ্ডপের বাইরের ও ভিতরের দেওয়ালে রয়েছে ৭৫০টি দেবদেবীর মূর্তি। তাতে শিব, পার্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, নারায়ণের মূর্তি রয়েছে। মণ্ডপের ভিতরে থাকবে শিব, পার্বতীর বিয়ের আসর। এজন্য বাসর ঘরের আদলে ভিতরটা সাজানো হয়েছে। মীনাক্ষী মন্দিরের মতো এখানেও মণ্ডপের ভিতরের দেওয়ালে রয়েছে অসংখ্যা কারুকার্য। গুজরাতের সুরাট থেকে আনা হয়েছে সিলিংয়ের নকশা। চার মাস ধরে ৪০ জন কারিগর মণ্ডপটি তৈরি করেছেন। আজ, মঙ্গলবার উদ্বোধন হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রধাননগরের নিবেদিতা রোডে নবাঙ্কুর সংঘ ও গ্রন্থাগারের পুজোর এবার ৫২তম বর্ষ। এরা দীর্ঘদিন ধরেই থিম পুজো করছে। এবার এদের থিম-‘লোক ঐতিহ্য’। পুজোর উদ্যোক্তারা বলেন, বাঁশ, কাঠ, বেড়া, লোহার ফ্রেম দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গ্রামের আদলে মণ্ডপ। তাতে আদিবাসীদের জীবন সংগ্রাম, কৃষ্টি, সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
গুরুংবস্তি সর্বজনীন পুজো কমিটির এবারের থিম-‘ভারত মাতা’। পুজো কমিটির সহ সম্পাদক অজয় সিং বলেন, কাল্পনিক মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। তাতে পদ্মফুলের উপর ভারত মাতার মূর্তি এবং দেশের মানচিত্র থাকছে। এখানেই থাকছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ বোস, ভগৎ সিং প্রমুখের ছবি। • নিজস্ব চিত্র।



