ডিপিএসসি চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা, সংঘ ঘনিষ্ঠদের স্থান!
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: উত্তরবঙ্গের ছয় জেলা সহ রাজ্যের মোট ১৯টি ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের (ডিপিএসসি) চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজসেবামূলক কাজ করছেন এমন ব্যক্তিদেরই এই পদে বসানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কোচবিহারে সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সাধনকুমার পাল। অন্যদিকে, জলপাইগুড়িতে ধীরাজমোহন ঘোষ, আলিপুরদুয়ারে দিলীপ পাল এবং শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলায় মণিকুমার লামা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। 

Advertisement

জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষা-সংস্কৃতি ফেরানোই হবে আমার মূল লক্ষ্য, ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পেয়ে এ কথা ঘোষণা করলেন সাধনবাবু। বড়ো দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনকে ধন্যবাদ জানান। কাল, বুধবার জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব নেবেন বলেন জানিয়েছেন। 
আলিপুরদুয়ার ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া দিলীপবাবু দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস ঘনিষ্ঠ। আলিপুরদুয়ার হাইস্কুলের গ্রন্থাগারিক তিনি। পুজোর পর দায়িত্বভার নেবেন বলে জানান। বিধানসভা ভোটের ফল বের হওয়ার পর আগের সরকার মনোনীত ডিপিএসসি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন পরিতোষ বর্মন। তখন থেকে জেলায় সংশ্লিষ্ট চেয়ারটি ফাঁকা ছিল। দিলীপবাবু বলেন, খুবই কঠিন দায়িত্ব। সকলের সহযোগিতা চাই। প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে চেষ্টা করব। 
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ধীরাজমোহন ঘোষ কাল জলপাইগুড়ি ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বহুদিন সামলেছেন তিনি। সংঘ ঘনিষ্ঠ বলে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ধীরাজবাবু বলেন, যে গুরুদায়িত্ব পেলাম তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। 
এদিকে, শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার চেয়ারম্যান হলেন মণিকুমার লামা। কবি সুকান্ত হাইস্কুলের জীববিজ্ঞানের শিক্ষক তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে যুক্ত থেকে সেবামূলক কাজ করছেন। শিলিগুড়ি মহকুমায় আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও কল্যাণে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। সংঘ অনুমোদিত আদিবাসী কল্যাণ সমিতি পরিচালিত উত্তরবঙ্গের সাতটি হস্টেলে তিনি এইচআর হিসাবে কাজ করছেন। মণিবাবুর কথায়, আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের উন্নয়নে তিনি বিশেষভাবে কাজ করে আসছেন। এবার আরও বড়ো দায়িত্ব পেলেন। 
এর আগে বিভিন্ন কলেজের পরিচালন সমিতিতে বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদদের মনোনয়ন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান নিয়োগেও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখছেন না মণিকুমার লামা। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নই হবে প্রধান লক্ষ্য। এখনও অনেক পড়ুয়া রয়েছে, যারা ঠিকমতো পড়তে বা নিজেদের নাম লিখতে পারে না। তাদের উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।