তিন পুতুলের পুজোয় বলির মাংস ভেজে নিবেদন করা হয় দেবীকে! সরকার বাড়ির পুজোয় থাকে না মহিসাষুর
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: আজ তৃতীয়া। বনেদি বাড়ির পুজোগুলিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। যেমন মানকরের ভট্টাচার্য পাড়ার মুখোপাধ্যায় বাড়িতে। তিনশ বছরের প্রাচীন এই পুজো এলাকার বাসিন্দাদের কাছে ‘তিন পুতুলের পুজো’ নামে খ্যাত। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কালনায় এবং মানকরে এই পুজোর প্রচলন আছে। পরিবারের সদস্য তূণক গোস্বামী বলেন, মুখোপাধ্যায় পরিবারের আদি পুরুষ রামপদ মুখোপাধ্যায় এই পুজোর প্রচলন করেন। মাঝে কয়েক বছর বিভিন্ন কারণে মূর্তির বদলে ঘটে পুজো হয়। তবে স্বাধীনতা উত্তরকালে সুরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের জন্মের পর আবার মূর্তিতে পুজো শুরু হয়। এখানে পুজোয় রয়েছে বিশেষ রীতি। যেমন নবমীর দিন দেবীর সামনে ছাগ বলি দিয়ে সেই মাংসের ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে তা রান্না করা হয় না। একটি বড় হাতায় মাংস ভেজে দেবীকে নিবেদন করা হয়।

Advertisement

সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে যে ভোগ দেওয়া হবে, তার চালের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মহিষমর্দিনী পুজো কালনায় শ্রাবণ মাসে হয়। এখানে দুর্গাপুজোর সময় হয়। মহিষমর্দিনী মূর্তি হওয়ায় দেবী এখানে একাই থাকেন। তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতী থাকে না।
মানকরের সরকার বাড়ির পুজোও প্রায় তিনশ বছরের প্রাচীন। এই মূর্তির বৈশিষ্ট্য হল মহিষাসুর থাকেন না। আছেন দেবী দুর্গা, শিব, তাঁদের সন্তান ও বাহনরা। তবে দেবী দুর্গার বাহন থাকে না। স্থানীয়দের কাছে মূর্তিটি কৈলাস মূর্তি নামে পরিচিত। এখানে বৈষ্ণব মতে দেবীকে পুজো করা হয়। দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হয় না। নানা ব্যাঞ্জন সহ লুচি নিবেদন করা হয়। বেসন আর গুড় দিয়ে নাড়ু বানানো হয় বাড়িতে, ভোগে সেটি নিবেদন করা হয়।
আউশগ্রাম-২ ব্লকের অমরপুর গ্রামের কায়স্থ পাড়ায় নবপত্রিকার পুজো হচ্ছে ৪৫০ বছর ধরে। বৈষ্ণব মতে এই পুজো সম্পন্ন হয়। নবপত্রিকার উপর দেবীর মুখমণ্ডল শোলা দিয়ে সাজানো হয়। প্রথম থেকেই এই রীতি চলছে। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় এখানে ছাগ বলি হয় না। তবে চালকুমড়ো বলি হয়। ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় বেলবরণ করা হয়। বেলবরণ অর্থাৎ নবপত্রিকার ন’টি গাছ নিয়ে পুজো হয়। সপ্তমীর সকালে চৌধুরী সরোবর থেকে দোলা আনা হয়। দশমীর দিন দেবীর বিসর্জন করতে হয়। এর অন্যথা হয় না। স্থানীয়রা এই পুজো দেখতে ভিড় করেন।