নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজোর মধ্যে সরকারি নির্দেশিকা না মানা সহ একাধিক অভিযোগে একটি ক্লাবের সাতজন সদস্য গ্রেপ্তার। রবিবার ব্যান্ডেলের কেওটা নবীন সঙ্ঘের সভাপতি গৌতম দাস সহ কর্মকর্তাদের একাংশকে গ্রেপ্তার করে চুঁচুড়া পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন চিকিৎসকও আছেন। এদিনই তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ধৃতদের দু’জনকে জামিন দিয়েছেন। বাকিদের তিনদিনের জেল হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ শোনা গিয়েছে গৌতমবাবুর মুখে। তিনি আদালতে যাওয়ার পথে বলেন, পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হতে হবে, আমরা কখনও ভাবিনি। এই লজ্জাজনক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা আইনের পথেই হাঁটব। এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত নবমীর রাতে। সেদিন টাকার বিনিময়ে ভিআইপি টিকিট দিয়ে দর্শকদের মণ্ডপে ঢোকানোর ব্যবস্থা করেছিল নবীন সঙ্ঘ। পুলিশ খবর পেয়ে তা বন্ধ করতে গেলে ক্লাবকর্তাদের সঙ্গে বচসা হয়। পুলিশ তখন দু’জন পুজো উদ্যোক্তাকে আটক করে নিয়ে আসে। এরপরে পুজো মণ্ডপের আলো নিভিয়ে দিয়ে এবং রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে অবশ্য আটক দু’জনকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। তবে লটারির মাধ্যমে দর্শককে মণ্ডপে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
পুজো মিটে যাওয়ার পরে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। বেআইনিভাবে টাকা তোলা, সরকারি কাজে বাধা, পথ অবরোধ সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়। রবিবার সকাল থেকে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। চন্দননগর কমিশনারেটের এক পুলিশকর্তা বলেন, বেআইনিভাবে টাকা তুলে মণ্ডপে লোক ঢোকানোর বিষয়টি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কলকাতার চোরবাগানের পরে কিছু নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয়। ওই পুজো কমিটি কোনওটাই মানেনি। সেই কারণেই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যান্ডেলের কেওটা নবীন সঙ্ঘ অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো। বিগত কয়েক বছর ধরে সেখানে ভিআইপি গেট দিয়ে দর্শকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবার সেজন্য লটারি করে ২০ টাকার টিকিট করা হয়। তা নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত।



