Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

খলনায়ক পলিউশন !

আমরা ছোটো থেকেই একটা কথা শুনে আসছি। ঋতু পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকা দরকার। কারণ, আমাদের সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি বিষয়গুলি বড়ো ফ্যাক্টর। তার সঙ্গে ঠিক থাকা দরকার মানুষের শ্বাসক্রিয়াও।

খলনায়ক পলিউশন !
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমরা ছোটো থেকেই একটা কথা শুনে আসছি। ঋতু পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকা দরকার। কারণ, আমাদের সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি বিষয়গুলি বড়ো ফ্যাক্টর। তার সঙ্গে ঠিক থাকা দরকার মানুষের শ্বাসক্রিয়াও। মানুষের শ্বাস নেওয়ার কথা ছিল বিশুদ্ধ বায়ুতে। যে বাতাসে কোনো দূষণ থাকবে না। এরকম পরিবেশের উপর ভিত্তি করেই মানব শরীরের শ্বসন প্রক্রিয়াই গড়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। বর্তমান সময়ে বাতাসের মান আর ভালো থাকছে না। দূষণে যেন বিষাক্ত হয়ে উঠছে আমাদের শ্বাস নেওয়ার বাতাস! প্রভাব পড়ছে মানব শরীরে। 

Advertisement

শীতে বাতাসের মান খারাপ হয় কেন?
১. এই সময় বৃষ্টিপাত হয় না প্রায়। মাটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। শুকনো মাটি থেকে উত্পন্ন ধুলো ক্রমাগত বাতাসের সঙ্গে মিশতে থাকে।
২. সারা বছরই শহরে নির্মাণকাজ চলতে থাকে। সেখান থেকেও প্রচুর ধূলিকণা হাওয়ায় মিশে যায়।
৩. শীতে বাতাসের গতি অনেক কম থাকে। ফলে ধূলিকণা বা ধোঁয়া বাতাসে মেশার পর তা নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। 
এইরকম পরিস্থিতিতে শ্বাসের সঙ্গে বিভিন্ন ধূলিকণা, রাসায়নিক আমাদের শরীরে ঢোকে। এর মধ্যে কিছুটা আমাদের শরীরই হাঁচির মাধ্যমে বের করে দেয়। কিন্তু পুরোটা কখনই পারে না। এরকম কণা যদি শরীরে ঢুকে পড়ে থাকে, তাহলে তা ক্রমশ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় কাশি, জ্বর বা সর্দি আগেও হতো, কিন্তু এখন তার সঙ্গে জুড়েছে দূষণ। কিন্তু যেভাবে বাতাসে বিভিন্ন রাসায়নিক, ধূলিকণা ও অন্যান্য কণা মিশছে, তাতে সর্দি-কাশি বা জ্বরের প্রকোপ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি আমাদের দেশে জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, জনঘনত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা বেশ কম।
করণীয় কী?
শীতকালে দিনের সময় ঘরের জানলা ও দরজা যতটা সম্ভব খোলা রাখুন। ঘরে বাতাস চলাচল করতে দিন। তাতে বাতাসে থাকা বিভিন্ন কণার ঘনত্ব কমে। শ্বাস নেওয়া সহজ হয়।
কলকাতার মতো শহরে এখন প্লাস্টিক সহ অন্যান্য আবর্জনা পোড়ানোর চল শুরু হয়েছে। এর ফলে নির্গত হচ্ছে ‘আনবার্নড হাইড্রোকার্বন’, যা ক্যানসারের অন্যতম কারণ। আবর্জনা পোড়ানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া, আরও কিছু বিষয় আমরা মাথায় রাখতে পারি। যেমন—দূষণ তুলনামূলক কম, সম্ভব হলে এমন জায়গায় বসবাস করা। বাইরে বেরলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। যে সময় দূষণ কম থাকে, সেই সময় বাইরে বেরলে কিছুটা রেহাই পাওয়া যেতে পারে।
লিখেছেন: শুভজিত্‍ অধিকারী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ