


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ভিলেন’ বৃষ্টি। তার জেরে নষ্ট হল একশোর বেশি ইউনিট রক্ত। মঙ্গলবার স্টকে এই পরিমাণই রক্ত ছিল। তার জেরে বর্তমানে রক্ত পরিষেবাই বিপর্যস্ত এখানে। পার্কসার্কাসের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে এই ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
তুমুল বৃষ্টিতে অস্বাভাবিক জল জমায় মঙ্গলবার খারাপ হয়ে গিয়েছিল এখানকার দুটি অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসাযন্ত্র—এমআরআই ও ডিজিট্যাল এক্স-রে মেশিন। আপাতত এই দুই মেশিনের নিখরচার পরিষেবা ছাড়াই ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে ন্যাশনাল। তারই মধ্যে বুধবার জানা গেল দুঃসংবাদ যে, প্রচুর পরিমাণে রি-এজেন্ট, কিট, ব্লাড ব্যাগসহ এখানকার ব্লাড ব্যাংকের অসংখ্য অপরিহার্য জিনিস নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে শতাধিক ইউনিট রক্ত। যার বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা।
কারণ বর্তমানে সরকারি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজের রোগীরা সরকারি ব্লাড ব্যাংকের রক্ত বিনামূল্যে পেলেও সরকারি রক্ত প্রাইভেটে ভর্তি রোগীদের পেতে হলে বা প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকে রক্ত কিনলে হলে—দুটি ক্ষেত্রে ইউনিটপিছু ১২০০-১৬০০ টাকা খরচ পড়ে। দু-তিনটি কর্পোরেট হাসপাতালে রক্ত এর থেকেও অগ্নিমূল্য। সেখানে আরও নিরাপদ ন্যাক পরীক্ষা করা হয়। বিলে খরচও চাপানো হয় সেইমতো।
ন্যাশনাল সূত্রের খবর, এই ১০০ ইউনিট রক্তের মধ্যে আরবিসি বা লোহিত রক্তকণিকা ছাড়াও রক্তের অন্যান্য উপাদান যেমন প্লাজমা, প্লেটলেটও রয়েছে। প্রশ্ন হল, কীভাবে নষ্ট হল এই বিপুল পরিমাণে রক্ত? হাসপাতাল সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ন্যাশনাল থেকে ঢিল ছোড়া দূরে এক ব্যক্তি তড়িদাহত হয়ে মারা যান। আরও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় এরপর স্থানীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে ন্যাশনালে। তার মধ্যে আবার ন্যাশনালের দুটি সাবস্টেশনের মধ্যে কিছুটা অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎসংযোগ যতক্ষণে ফিরে আসে, ততক্ষণে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের ফ্রিজে থাকা সমস্ত রক্ত, রক্তের উপাদান, কিট, ব্যাগ নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলেও এখানকার উপাধ্যক্ষ ডাঃ অর্ঘ্য মৈত্রকে ফোন ধরেননি। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, শুনেছি। প্রাকৃতিক রোষের কাছে কী আর করা যাবে!