Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুকুরের জল পানীয় হিসেবে ব্যবহার করছেন গ্রামবাসীরা

পেরিয়ে গিয়েছে স্বাধীনতার ৭৭ বছর। কিন্তু তারপরেও পরিস্রুত পানীয় জলের অভাব বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

পুকুরের জল পানীয় হিসেবে ব্যবহার করছেন গ্রামবাসীরা
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পেরিয়ে গিয়েছে স্বাধীনতার ৭৭ বছর। কিন্তু তারপরেও পরিস্রুত পানীয় জলের অভাব বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বাধ্য হয়েই বাসিন্দারা পুকুরের দূষিত জল নিজেদের মতো পরিস্রুত করে পান করছেন। তাতে আক্রান্তও হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে। প্রশাসনকে বারেবারে জানিয়েও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি বলেই দাবি ভুক্তভোগীদের।

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন লাগোয়া হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক। বসিরহাট শহর থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রধান প্রবেশপথ হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালি। সেখান থেকে ভাণ্ডারখালি, হাটগাছা, কালীতলা, হেমনগর ও শামসেরনগরে যাওয়া যায়। এই বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা পানীয় জল। গ্রামগুলিতে পরিস্রুত পানীয় জল পাওয়া যায় না। বাসিন্দাদের ভরসা পুকুরের দূষিত জল। সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামে বেশ কিছু টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি অকেজো।
অন্যদিকে, দুলদুলি পঞ্চায়েতের দক্ষিণ লেবুখালি, বিধানবাড়ি, তিন নম্বর লেবুখালি ও স্বরূপকাটি সহ একাধিক গ্রামে পানীয় জলের কোনও প্রকল্পই চোখে পড়ে না। এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুরের জল পান করছে। সেখান থেকে তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন চর্ম ও পেটের বিভিন্ন রোগে। কোথাও কোথাও দুই একটি টিউবওয়েল আছে। কিন্তু সেগুলিতে নোনাজল ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ আবার জল কিনে ব্যবহার করছেন। কিন্তু সকলের পক্ষে তা সম্ভব নয়। এ থেকে রেহাই পেতে বাসিন্দারা বারকয়েক প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা দেবু হজরা বলেন, আমাদের কাছে পানীয় জল এখন স্বপ্নের। একবার বা দু’বার নয়, একাধিকবার পঞ্চায়েত থেকে ব্লকে জানানো হয়েছে আমাদের এই প্রাথমিক চাহিদার কথা। কিন্তু কিছুই হয়নি! দুলদুলির সম্বিতা পাত্র বলেন, আমরা পুকুরের জলই ফুটিয়ে ব্যবহার করি। কি আর করার আছে? আমাদের কথা কে আর ভাবে বলুন। তবে ভোট এলে অবশ্য আশ্বাস মেলে।
এনিয়ে দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বিধান মুণ্ডা বলেন, গ্রামে নতুন করে টিউবওয়েল বসানো হবে। কয়েকটি জায়গায় পাইপলাইনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার পাশে উপযুক্ত জায়গা না থাকায় সেই কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এনিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শহিদুল্লাহ গাজি বলেন, আসলে পানীয় জল প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ বন্ধ। তাই উদ্যোগ নিয়েও আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে হিঙ্গলগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রলি ভ্যানে করে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তবে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায়। কিন্তু তারপরেও পানীয় জল এখানে স্বপ্নের। এটা লজ্জার।   নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ