Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাঁয়ের ছেলে বিধায়ক! ভাঙন কবলিত কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ গ্রামে খুশির হাওয়া

ভাঙন কবলিত কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ গ্রাম। ভৌগোলিক ভাবে গ্রামটিকে পূর্ব বর্ধমানের থেকে আলাদা করেছে ভাগীরথী নদী৷ নৌকাই যোগাযোগের মূল ভরসা  এই গ্রামের বাসিন্দাদের৷

গাঁয়ের ছেলে বিধায়ক! ভাঙন কবলিত কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ গ্রামে খুশির হাওয়া
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভাঙন কবলিত কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ গ্রাম। ভৌগোলিক ভাবে গ্রামটিকে পূর্ব বর্ধমানের থেকে আলাদা করেছে ভাগীরথী নদী৷ নৌকাই যোগাযোগের মূল ভরসা  এই গ্রামের বাসিন্দাদের৷ সেই গাঁয়েরই ছেলে কৃষ্ণ ঘোষ সদ্য বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন৷ গাঁয়ের মানুষের দু:খ, কষ্ট সবই তিনি বোঝেন৷ নদী ভাঙনের যন্ত্রণা খুব কাছ থেকে দেখেছেন৷ তাঁকে বিধায়ক হিসাবে পেয়ে উৎসবে মাতোয়ারা বাসিন্দারা৷ পদ্মের এই নতুন বিধায়কের কাছে বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙন রোধে যেন  গ্রামটা বাঁচে।  

Advertisement

প্রতিদিন দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে কৃষ্ণবাবুকে ভাগীরথীতে নৌকা পার হয়ে যেতে হয়। ভাগীরথীর পাড়ে কৃষ্ণবাবুর কানে যেত মাটি ধসে যাওয়ার শব্দ৷ গ্রামের একের পর এক বাসিন্দার বাড়ি একটা সময় ভাঙনের কবলে চলে গিয়েছিল৷ বাসিন্দারা এখন বলছেন, গ্রামের ছেলেকেই বিধায়ক হিসাবে পেয়েছি। অন্তত গ্রামে ভাঙন রোধে যেন কাজ করেন তিনি। গ্রামে উৎসবের মেজাজ শুরু হয়েছে৷ প্রত্যেকেই নতুন বিধায়ককে কাছে পেয়ে গেরুয়া আবির খেলায় মাতেন।  
কাটোয়ার-২ ব্লকের  অগ্রদ্বীপ গ্রাম সহ চর সাহাপুর, চর বিষ্ণুপুর, কালিকাপুর   গ্রামগুলির পাশ দিয়েই বয়ে যাচ্ছে ভাগীরথী। এসব এলাকাগুলি ভাগীরথীর ভয়াবহ ভাঙন কবলিত। ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ভাগীরথীর ভাঙনে কয়েকবারই তার গতিপথ পাল্টেছে। তারপর ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার পর অগ্রদ্বীপ গ্রামে ভাঙন শুরু হয়৷ ভাঙনের জেরে ভিটে জমি সবই তলিয়ে যায় নদীগর্ভে। অগ্রদ্বীপ ঘোষপাড়া এলাকায় ভয়ানক ভাঙন হয়েছে৷  এছাড়াও মাঝেরপাড়াতেও কয়েক’শো মিটার জুড়ে নদীর পাড় ভেঙেছে। বেশ কয়েকটি বাড়ি বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছে৷ অগ্রদ্বীপ ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ৩০ ফুট ভেঙেছে৷ ঝুপঝাপ করে সারাদিন ব‌঩ড়ো বড়ো নদী পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে জলে৷ আর তার ঠিক পাশ দিয়েই মানুষজন ফেরি পারাপারের জন্য যাতায়াত করছেন। ফেরিঘাটের কর্মী নরেশ হালদার বলেন, রাস্তাটা ৪০ ফুট চওড়া ছিল৷ ভেঙে এখন সেটা মাত্র ১৫ ফুটে এসে ঠেকেছে। মানুষ এখন যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছেন৷ জানা গিয়েছে, অগ্রদ্বীপের ঘোষপাড়ার কাছে ৮০০ মিটার কয়েক মাস আগেই ভেঙেছে৷ দু’বছর আগেও অগ্রদ্বীপে প্রায় ১৪ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে কাজ করেছিল সেচ দপ্তর। মাঝেরপাড়া এলাকায় বালির বস্তা দিয়ে কাজ করা হয়েছিল৷ তবুও রোখা যাচ্ছে না ভাঙন। বাসিন্দারা বলছেন, অন্তত এবার ভাঙন রোধে স্থায়ী ভাবে কাজ হোক গ্রামে। বিজেপির সদ্য বিধায়ক হওয়া জয়কৃষ্ণ ঘোষ বলেন,  শুধু আমার গ্রাম অগ্রদ্বীপ কেন, ভাগীরথীর তীরে যেসব গ্রামে ভাঙন রয়েছে, সব কাজই করব৷ তাছাড়া আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেগুলিও পালনের চেষ্টা করব। 

সম্পর্কিত সংবাদ