নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১২৫ দিনের কাজ, অর্থ কমিশন, সমগ্র শিক্ষা মিশন, আবাস যোজনা সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সোশ্যাল অডিটের জন্য ২০১৬ সালে নিযুক্ত করা হয়েছিল ২৫ হাজার ৪০ জন ভিলেজ রিসোর্স পার্সনসকে (ভিআরপি)। কিন্তু সোশ্যাল অডিটের তুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ থেকে শুরু করে দুয়ারে সরকার শিবিরের কাজে বেশি লাগানো হয় ভিআরপিদের। দু-তিন মাস অন্তর বেতন পেলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত বেতন থেকে তাঁরা বঞ্চিত বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায় করতে লড়াই করছেন ভিআরপিরা। এমনকি ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর বনগাঁর গোপালনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় সরব হয়েছিলেন বেশ কিছু ভিআরপি। যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সমস্যার কথা জানিয়ে পঞ্চায়েত দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি ধরনায় বসেছিলেন তাঁরা। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যে পালাবদল হতেই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ‘সম কাজে সম বেতন’ সহ একাধিক দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার নয়া পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দ্বারস্থ হলেন ভিআরপিদের প্রতিনিধি দল। প্রতিদিন সকালে ইকোপার্কে মর্নিং ওয়াক করেন দিলীপবাবু। এদিনও সস্ত্রীক মর্নিং ওয়াক করতে যান। তখনই তাঁর সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের প্রতিনিধি দল। তাঁদের সমস্যার কথা জানানোর পাশাপাশি দাবিদাওয়া সংক্রান্ত চিঠি তুলে দেন সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের তুলসী গুহ, শেখ জুলফিকার এবং কৌশিক মণ্ডলরা। জুলফিকার জানিয়েছেন, সোশ্যাল অডিটের কাজ করলে তাঁদের দিনে ৬৩০ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু তাঁরা সেই অর্থে কাজ পান না। আর ডেঙ্গু সংক্রান্ত কাজ করলে যেখানে দিনে ৩৮৬ টাকা পাওয়ার কথা, সেখানে তাঁরা হাতে পান মাত্র ২০০ টাকা। এছাড়াও তাঁদের ছুটি বলে কিছু নেই। এই পরিস্থিতিতে মূলত সাতদফা দাবি পেশ করা হয়েছে নতুন মন্ত্রীর কাছে। ‘সম কাজে সম বেতন’ নীতি ছাড়াও তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল চাকরির স্থায়ীকরণ, সম্মানজনক ও সময়মতো বেতন। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি, মহিলা কর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটিরও দাবি জানানো হয়েছে।



