সংবাদদাতা, খড়্গপুর: নামে কি এসে যায়? হ্যাঁ, অনেক কিছুই এসে যায়। আর তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ডেবরার বিশ্রীগেড়িয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’-র পোর্টালে নেই বিশ্রীগেড়িয়া, কুমোরপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নাম। ফলে এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন না ডেবরার জালিমন্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশ্রীগেড়িয়া, কুমোরপুর এলাকার চাষিরা। এদিকে এই প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। ফলে মহা ফাঁপরে পড়েছেন ডেবরা ব্লকের কয়েকশো চাষি। তাঁরা ইতিমধ্যেই এবিষয়ে বিডিওর দ্বারস্থ হয়েছেন।
ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসন ও কৃষি আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলছি। অবিলম্বে যাতে এই সমস্যার সমাধান হয়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি বা বন্যার কারণে সবং, পিংলা, ডেবরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সবংয়ে এসে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে গিয়েছেন। দিনকয়েক আগে এই প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বরও করা হয়েছে। তবে আবেদন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন ডেবরার বিশ্রীগেড়িয়া, কুমোরপুর এলাকার চাজষিরা। প্রণব ভৌমিক, অসিত রাউত, রঞ্জন রাউত বলেন, এই প্রকল্পে শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই আবেদন করা যায়। আর সেখানে আবেদন করতে গিয়ে দেখছি, জেলা, ব্লক প্রভৃতি সব ঠিকঠাক থাকলেও আমাদের গ্রামের নাম ড্রপডাউনে নেই। ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে না। বিডিও অফিসে অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে, আমরা আর আবেদন করতেই পারব না। এই আবেদন প্রক্রিয়া অফলাইনে থাকলে কোনো সমস্যা হত না বলে দাবি চাষিদের। ডেবরার বালিচকের বাসিন্দা তথা শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, চাষিদের জন্যই তো এই প্রকল্প। সেক্ষেত্রে চাষিরাই যদি আবেদন না করতে পারেন, তাহলে তা অত্যন্ত হতাশার। আমি চাষিদের এই সমস্যার কথা জানতে পেরেই বিষয়টি বিডিওকে জানিয়েছি। তিনি এও জানান, আয়ুষ্মান কার্ডে তৈরির সময়ও বিশ্রীগেড়িয়া গ্রামের নাম দেখাচ্ছে না। অন্য কোনো গ্রামের নাম দিয়ে করতে হচ্ছে। আধার কার্ড, রেশন কার্ডের সংশোধনের ক্ষেত্রেও বেশকিছু গ্রামের নাম নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে কিংকরবাবু জানান। ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিডিও ও কৃষি আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলব।