Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘দর্শক এখন সিনেমা হলে আসতে দ্বিধাবোধ করেন’

সদ্য নেটফ্লিক্স-এ মুক্তি পেয়েছে নীরজ পাণ্ডের নতুন সিরিজ  ‘তস্করি : দ্য স্মাগলারস ওয়েব’। এই সিরিজে কাস্টমস অফিসারের চরিত্রে চমকে দিয়েছেন অভিনেতা ইমরান হাশমি।

‘দর্শক এখন সিনেমা হলে আসতে দ্বিধাবোধ করেন’
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সদ্য নেটফ্লিক্স-এ মুক্তি পেয়েছে নীরজ পাণ্ডের নতুন সিরিজ  ‘তস্করি : দ্য স্মাগলারস ওয়েব’। এই সিরিজে কাস্টমস অফিসারের চরিত্রে চমকে দিয়েছেন অভিনেতা ইমরান হাশমি। একান্ত সাক্ষাৎকারে নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তিনি।

Advertisement
  •  নতুন দুনিয়া, নতুন চ্যালেঞ্জ

মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দারুণ সাড়া ফেলেছে সিরিজটি। নীরজ পাণ্ডের এই সিরিজে ইমরানকে কাস্টমস অফিসার ‘অর্জুন মীনা’র ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। এই প্রথম এমন চরিত্রে অভিনয় করলেন তিনি। নতুন চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামলালেন? মৃদু হেসে ইমরান বলেন, ‘হিন্দি ছবিতে কাস্টমস অফিসারকে কেন্দ্র করে খুব কম কাজ হয়েছে। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই চরিত্রটাকে ঠিকভাবে বোঝা।’ ইমরান জানালেন, পরিচালক ও তাঁর টিম প্রায় দেড় বছর ধরে চিত্রনাট্যকে ঘিরে প্রচুর গবেষণা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘নীরজ বহু কাস্টমস অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে অনেক অফিসারের সঙ্গে দেখা করেছি। চিত্রনাট্য থেকে চরিত্রটা সম্পর্কে অনেকটাই আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু একজন কাস্টমস অফিসারের শারীরিক ভাষা, কথা বলার ধরন, অন-ডিউটি আদবকায়দা এসব কিছু সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা। আমাকে বাস্তব অফিসারদের কাছ থেকেই এসব শিখতে হয়েছে। আর এয়ারপোর্টে যাতায়াতের সময় সচেতনভাবে এসব বিষয় লক্ষ্য করতাম, সেগুলো আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি।’

  •  সংলাপ মানেই বাইবেল

নীরজ পাণ্ডের কাজ করার নির্দিষ্ট স্টাইল রয়েছে। ইমরান সবথেকে বেশি খুশি এই সিরিজের সংলাপ নিয়ে। তিনি বলেন, ‘নীরজের সংলাপ একেবারে টু দ্য পয়েন্ট, অপ্রয়োজনীয় কিছু থাকে না। সবচেয়ে বড় কথা, যেটা শ্যুট করছেন, সেটাই ফাইনাল আউটপুটে থাকবে। অনেক পরিচালক একাধিক অ্যাঙ্গেল থেকে শট নেন, কিন্তু নীরজ খুব নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেলেই শ্যুট করেন। কারণ ওঁর মাথায় এডিটিং প্যাটার্ন আগেই পরিষ্কার থাকে। এই ধরনের স্বচ্ছতা আমি খুব কম পরিচালকের মধ্যে দেখেছি। ওঁর সংলাপকে বাইবেলের মতো মেনে চলতে হয়।’

  •   বদলে যাওয়া বাস্তব

ইমরানের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘হক’। ইয়ামি গৌতম অভিনীত ছবিটি বক্স অফিসে সেভাবে সাফল্য না পেলেও ওটিটিতে সারা বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছে। এপ্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘আসলে এখন পরিবেশটাই বদলে গিয়েছে। ‘হক’ বক্স অফিসে প্রায় ৩০ কোটির ব্যবসা করেছে। কোভিডের আগে হলে হয়তো সেটা ৮০-৯০ কোটি আয় করতো। এখন চার-পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই যে কোনও সিনেমা ওটিটিতে চলে আসে। তার উপর টিকিটের দাম অনেক বেড়েছে। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে গেলে চার-পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এসবের জন্যই দর্শক এখন থিয়েটারে আসতে দ্বিধাবোধ করেন।’ 

  •  ‘টাইপকাস্ট’ থেকে বহুমুখী

ইমরান এক সময়ে বলিউডের ‘টাইপ কাস্ট’-এর অদৃশ্য বেড়াজালে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁর গায়ে ‘সিরিয়াল কিসার’-এর তকমাও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন নানান ধরনের চরিত্রে নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন এই বলিউড তারকা। সে প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘সত্যি বলতে ‘টাইপকাস্ট’ নিয়ে আমার কখনও দমবন্ধ মনে হয়নি। আসলে ইন্ডাস্ট্রির একটা নীতি আছে, যেটা চলে বা যার থেকে মুনাফা হয়, সেটা ক্রমাগত চলতেই থাকে। আর দর্শকও তা দেখতে পছন্দ করেন। তবে এখন হয়তো তা আর হয় না। তবে প্রাসঙ্গিক থাকার লড়াইটা আসল। আমি বুঝেছি ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে হলে নিজেকে বদলাতে হবে। আমি সেটাই করেছি। দর্শক এখন অনেক বেশি পরিণত, গল্প বলার ধরন বদলেছে। অভিনেতা হিসেবে নিজের বহুমুখী প্রতিভা তুলে ধরা খুব জরুরি ছিল।’

দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ