Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিডিও ভাইরাল, কুমির আতঙ্কে কাঁপছে চুঁচুড়া ও বাঁশবেড়িয়া

রবিবার গঙ্গাস্নানের বাড়তি ভিড় থাকে। কিন্তু এদিন বাঁশবেড়িয়া থেকে চুঁচুড়া, গঙ্গার ঘাট শুনশান। পুজোর জন্য অনেকে জল নিতে এসেছিলেন। ভয়ে জল নিয়েই কোনওরকমে ফিরে যান।

ভিডিও ভাইরাল, কুমির আতঙ্কে কাঁপছে চুঁচুড়া ও বাঁশবেড়িয়া
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও সংবাদদাতা, কল্যাণী: রবিবার গঙ্গাস্নানের বাড়তি ভিড় থাকে। কিন্তু এদিন বাঁশবেড়িয়া থেকে চুঁচুড়া, গঙ্গার ঘাট শুনশান। পুজোর জন্য অনেকে জল নিতে এসেছিলেন। ভয়ে জল নিয়েই কোনওরকমে ফিরে যান। আতঙ্কের কারণ, কুমির। শনিবার রাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, জলের মূর্তিমান আতঙ্ক সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর নীচে। বাঁশবেড়িয়ায় শুধু নয়। মাসখানেক আগেই কল্যাণীর মাঝেরচর এলাকাতেও কুমির-আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

Advertisement

বাঁশবেড়িয়ার ত্রিবেণী ঘাটে দাহকার্য করতে এসে মানুষ গঙ্গায় নামেন। বাঁশবেড়িয়া থেকে চুঁচুড়া পর্যন্ত গঙ্গার ধারে প্রচুর মন্দির আছে। সেখানে নিত্যপুজো করতে এসেও মানুষ গঙ্গাস্নান করেন। ফলে ভিডিও’র সত্যতা যাচা‌ইয়ের আগেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের নিরাপত্তায় রবিবার সকাল থেকেই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। সকালেই বাঁশবেড়িয়া ও চুঁচুড়ার গঙ্গার পাড়ে মাইকিং শুরু হয়। বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজ চলে। বনদপ্তর এবং পুলিস গঙ্গার পাড়ে লাগাতার নজরদারি চালানো শুরু করে।
চুঁচুড়া সদরের মহকুমা শাসক স্মিতা সান্যাল শুক্লা বলেন, ‘বনদপ্তর, পুলিস, প্রশাসন ও পুরসভার তরফে নজরদারি চলছে। আগামী কিছুদিন সতর্কতা বহাল থাকবে। কোনও ঝুঁকি আমরা নিতে চাই না।’ বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘ওটি মেছো ঘড়িয়াল বলে মনে হচ্ছে। আমরা সবরকমের প্রস্তুতি রেখেছি।’ কাঁচরাপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান পঙ্কজ সিং বলেন, ‘সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন নজরদারি করছে। আপাতত কয়েকদিন গঙ্গাপাড়ে নজরদারি চলবে। বনদপ্তর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। সম্ভব হলে কুমিরটিকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হবে।’ চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য জয়দেব অধিকারি বলেন, ‘আমরা মানুষের ক্ষতি হোক চাই না। আবার কুমিরটির ক্ষতিও চাই না। আম জনতাকে জলে না নামতে বলা হয়েছে।’ 
রবিবার দুপুরে চুঁচুড়ার ময়ূরপঙ্খী ঘাটে জল নিতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘গঙ্গাজল নিতে এসেছিলাম। আতঙ্ক কবে কাটবে জানি না।’ বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, ‘গঙ্গার পাড়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ