নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধর্ষণকারীদের এনকাউন্টার করার দাবি জানালেন সাতগেছিয়ার নির্যাতিতার বাবা। ওই নাবালিকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। শুক্রবার তার বাবা কেরল থেকে ফিরে হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, ধর্ষণকারীদের এনকাউন্টার করা উচিত। এদের বাঁচিয়ে রাখলে আবার তারা এ ধরনের অন্যায় করবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা ওই দু’জনের থেকে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। ওই নাবালিকার প্রাক্তন স্বামীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ১৭ বছরের ওই নাবালিকা বাড়ির অমতে পাশের গ্রামের এক যুবককে বিয়ে করে। বিয়ের তিন মাসের মধ্যে সে ভুল বুঝতে পেরে বাপের বাড়ি ফিরে আসে। তারপর থেকে সে আর যোগাযোগ রাখছিল না। কিন্তু ওই যুবক প্রায় গ্রামে এসে তাকে কটুক্তি করত। ঘটনার রাতে ওই নাবালিকা গভীর রাতে শৌচালয়ে গিয়েছিল। সেই সময় তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ওই নাবালিকাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। মুখে ইট বা পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়।
নাবালিকার পরিবারের এক সদস্য বলেন, গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে মারা গিয়েছে ভেবে তাকে ফেলে তারা চলে যায়। বরাত জোরে সে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। সে পুলিশকে অভিযুক্তদের নাম জানিয়েছে। পরিকল্পনা করেই তাকে মারা হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই নেশা করত। নেশার ঠেকে বসেই তারা অপরাধের পরিকল্পনা করে থাকতে পারে। নির্যাতিতার বাবা বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল নয়। কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করি। সেই টাকাতেই সংসার চলে। বাড়িতে স্ত্রী এবং মেয়ে ছিল। দুষ্কৃতীরা অনেক আগে থেকেই হয় গ্রামে আসত। মেয়ে কখন শৌচালয়ে যায় সেটাও তারা নজর রেখেছিল। তাকে দুষ্কৃতীরা বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তুলে নিয়ে যায়। সেখানেই গণধর্ষণ করার পর ফেলে দিয়ে যায়। এর আগেও তারা মেয়েকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু তারা সত্যিই এমন কাণ্ড করতে পারে বলে ভাবতে পারেনি। দুষ্কৃতীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে বলে আশা করি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই কড়া পদক্ষেপ করবেন।