Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যান্ডেলে ভিড় রাস্তায় সাইড দিতে না পারায় বেদম মার পশু চিকিৎসককে

ভিড় রাস্তায় সাইড দিতে পারেননি। এই অভিযোগে এক পশু চিকিৎসককে বেদম মারধর করল এক যুবক। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ওই যুবকের রীতিমতো খুনে চেহারা দেখে হতভম্ব হয়ে যান স্থানীয় লোকজন।

ব্যান্ডেলে ভিড় রাস্তায় সাইড দিতে না পারায় বেদম মার পশু চিকিৎসককে
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভিড় রাস্তায় সাইড দিতে পারেননি। এই অভিযোগে এক পশু চিকিৎসককে বেদম মারধর করল এক যুবক। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ওই যুবকের রীতিমতো খুনে চেহারা দেখে হতভম্ব হয়ে যান স্থানীয় লোকজন। বুধবার দুপুরে ব্যান্ডেল চার্চ এলাকায় ঘটনা ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত আশপাশের লোকজনই ওই যুবককে ধরে ফেলেন। তারপর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এলাপাতাড়ি মারার ফলে চোখে গুরুতর চোট পেয়েছেন পশু চিকিৎসক বিপ্লব দাস। ৪৮ বছর বয়সি ওই ব্যক্তিকে দুপুরে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চুঁচুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই যুবকের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

Advertisement

এদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিপ্লববাবু বলেন, ব্যান্ডেল চার্চের কাছে একটি বেসরকারি স্কুল আছে। প্রতিদিন সেখানে যানজট হয়। এদিনও ছিল। আমি চারচাকার গাড়িতে ছিলাম। ভিড়ের কারণে ডাইনে-বাঁয়ে যাওয়া যাচ্ছিল না। এক যুবক বাইক নিয়ে আমার গাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত হর্ন দিচ্ছিল। আমি তাকে রাস্তার পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলতে গিয়েছিলাম। তখনই সে বাইক থেকে নেমে আমার উপরে হামলা চালায়। মেরে আমার মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে। লাথি, কিল, চড় কিছুই বাকি রাখেনি। আরও দুঃখের যে, শেষপর্যন্ত সে আমাকে বলে, ‘আমার বাবার অনেক টাকা। যত টাকা লাগে আমি দেব, মিটিয়ে নে।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি বালি মোড় থেকে ব্যান্ডেল চার্চের দিকে এসেছিলাম। ঘটনা আমার নিজের চোখে দেখা। যা পরিস্থিতি ছিল, তাতে গাড়ি নিয়ে নড়াচড়া করা যাচ্ছিল না। বছর পঁচিশের ওই যুবক যে ভাষায় গালাগাল করছিল, তাকে অশ্রাব্য বললেও কম বলা হয়। রীতিমতো খুনে মেজাজে সে ক্রমাগত মারছিল ওই পশু চিকিৎসককে। এদিন থানায় আটক অবস্থায় ওই যুবক কোনও প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রহৃত পশু চিকিৎসক বাঁশবেড়িয়ার মহাকালীতলার বাসিন্দা। প্রতিদিন তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ব্যান্ডেল চার্চের সামনে দিয়ে চুঁচুড়ায় নিজের চেম্বারে আসেন। এদিনও সেই পথেই আসছিলেন। দুপুরে দেড়টা নাগাদ তিনি ব্যান্ডেল চার্চের কাছে যানজটে আটকে পড়েন। সেই সময়ে তাঁর গাড়ির পিছনে একটি অটো দাঁড়িয়েছিল। তার পিছনে বাইকে ছিল অভিযুক্ত যুবক। ওই যুবক বারবার যানজট কাটিয়ে বেরনোর চেষ্টা করছিল এবং ক্রমাগত হর্ন দিচ্ছিল। এক সময় সে পশু চিকিৎসকের গাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে হর্ন দিতে শুরু করে। তার প্রতিবাদ করতেই বাইক থেকে নেমে ওই যুবক গালিগালাজ শুরু করে এবং হামলা চালায়। যা দেখে স্থানীয় মানুষ তো বটেই, সাধারণ মানুষও বিস্মিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ