নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের জন্য নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই কাজ আগস্ট মাসে শেষ হওয়ার কথা। এই প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকরা কোনো সরকারি বা সরকারি আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত পেনশন প্রাপক কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘কৃষকবন্ধু’ প্রাপক আয়কর দেন কি না, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ গিয়েছে কি না—এসবও দেখা হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়ে থাকলে তিনি ট্রাইবুনালে বা সিএএ-তে আবেদন করেছেন কি না, যাচাই হবে তাও। যদিও কৃষিদপ্তর এ সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে সরাসরি বলা হয়নি, সরকারি কর্মী, পেনশন প্রাপক, আয়করদাতা বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে ‘কৃষকবন্ধু’র সুবিধা মিলবে না। তবে সব কিছু যাচাই করে দেখার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রকল্পের সুবিধা প্রাপ্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ে সহকারী কৃষি আধিকারিক বা এক্সটেনশন অফিসারকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময় ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে নথিভুক্তির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৯০ লক্ষ অতিক্রম করে। বিজেপির সরকার আসার পর কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল ঘোষণা করেন, ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্প প্রাপকদের তথ্য যাচাই করা হবে। রাজ্য বাজেটে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, কৃষকদের বছরে ৩ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম কিষাণ’ প্রকল্পের এটা অতিরিক্ত। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কৃষকদের বছরে তিন দফায় মোট ৬ হাজার টাকা দেওয়া। রাজ্যের প্রকল্পের কৃষকদের মধ্যে কোনো বাছাই আগের সরকারের সময় করা হত না। কিন্তু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অনেকগুলি মাপকাঠি আছে। সরকারি কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী, আয়করদাতাসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা মেলে না। ‘কৃষকবন্ধু’র তুলনায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গে সুবিধা প্রাপকের সংখ্যা অনেক কম (প্রায় সাড়ে ৪৫ লক্ষ)। যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতাভুক্তদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট ফর্মে সমস্ত তথ্য উল্লেখ করা ছাড়াও আধার, ভোটার কার্ড, জমির কাগজ, ব্যাংকের নথির কপি দিতে হচ্ছে।