নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারানো গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের বিশেষ ভাতা পেতে গেলে নির্দিষ্ট প্রোফর্মায় স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। শ্রমদপ্তর এই ভাতা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর স্কুলশিক্ষা দপ্তর থেকে সম্প্রতি জেলা স্কুল পরিদর্শকদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। স্কুলের এই চাকরি হারানো অশিক্ষক কর্মচারীরা ভাতার জন্য শিক্ষাদপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে যে আবেদন করবেন, তার প্রোফর্মা ঠিক করে দিয়েছে শ্রমদপ্তর। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদনগুলি যাচাই করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেটি ‘সার্টিফাই’ করে পাঠাবেন জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে। জেলা পরিদর্শক আবেদনপত্রগুলি ফের যাচাই করে পাঠাবেন স্কুলশিক্ষা দপ্তরে। তারপর স্কুলশিক্ষা দপ্তর তা যাচাই করে শ্রমদপ্তরের কাছে পাঠিয়ে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছেন, এপ্রিল মাস থেকে এই ভাতা প্রকল্পটি চালু হয়েছে।
শ্রমদপ্তরের আওতাধীন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিম’-এর আওতায় এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া জেসপ ও ডানলপ কারখানার শ্রমিকদের বেশ কয়েক বছর ধরে একইভাবে মাসিক ভাতা দিয়ে আসছে রাজ্য। চাকরি হারানো গ্রুপ সি কর্মীরা মাসে ২৫ হাজার টাকা ও গ্রুপ ডি কর্মীরা ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। ১৪ মে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভাতা দেওয়ার প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। তার পরের দিনই শ্রমদপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আবেদনকারী অন্য কোনও কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করলে এই ভাতা পাবেন না। সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, ভাতা পাওয়ার বিষয়টি তার উপর নির্ভর করছে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাতা প্রাপকরা এটিকে নিজেদের অধিকার হিসেবে গণ্য করতে পারবেন না। প্রাপকের মৃত্যু বা অবসর হলে ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। আবেদনকারীরা যে ফর্ম জমা দেবেন, তাতেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টেই প্রতি মাসের টাকা জমা পড়বে।