নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভেলোর মেডিকেল কলেজের গেস্ট লেকচারার। বর্ধমানের বাসিন্দা অংশুমান রায়ের বিরুদ্ধে আনন্দপুর এলাকার একটি গেস্ট হাউসে লিভ-ইনের নাম করে এক তরুণীকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত অংশুমানকে রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে আনন্দপুর থানা। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছে। একইসঙ্গে কড়েয়া ও কসবায় দু’টি পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দু’জনকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভেলোর মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি ওই গেস্ট লেকচারার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পড়াতে যান। তিনি বর্ধমানে থাকাকালীন এক বন্ধু ও তাঁর স্ত্রী মাঝেমধ্যেই তাঁর বাড়িতে আসতেন। হঠাৎ ওই বন্ধু মারা যান। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান অংশুমান। এরপর লিভ-ইনের নাম করে ওই মহিলাকে নিয়ে আসেন আনন্দপুর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। সেখানে তাঁরা বছরখানেক ছিলেন। তরুণীর অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটে দিনের পর দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর বেপাত্তা হয়ে যান অংশুমান। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তরুণী অংশুমানের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু মোবাইল নম্বর বদল করায় কেউই তাঁর খোঁজ পাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে পুলিশ জানতে পারে, অংশুমান পর্ণশ্রী এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন। জোগাড় হয় তাঁর ফোন নম্বর। এরপর টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিশ হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করে তাঁকে।
কড়েয়া এলাকায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় এক যুবকের। এরপর তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, ঘনিষ্ঠতা বাড়লে গেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণের পাশাপাশি ওই দৃশ্য ভিডিয়ো করে যুবক। এরপর চলে ব্ল্যাকমেইলিং। সম্প্রতি অভিযুক্ত যুবক লাল্টু ঘোষ অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন কড়েয়া থানায়। তার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে রবিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, কসবা থানা এলাকায় সায়ন্তন সাধুঁখা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর বান্ধবী। এক্ষেত্রেও পরিচয় সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে। রবিবার রাতে পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।