নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর কলকাতাসহ ১৩টি পুরসভা এলাকায় নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের ‘সেফটি অডিট’ শুরু করেছে রাজ্য। তার জন্য গত প্রায় দু’মাস ধরে সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। ছ’তলা বা তার বেশি তলের নির্মীয়মাণ রেসিডেন্সিয়াল ভবনও রয়েছে এই অডিটের আওতায়। এই অবস্থায় সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে আবাসন নির্মাতাদের সংগঠন ‘ক্রেডাই’ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ২৯৩টি নির্মাণ ইতিমধ্যে অডিট কমিটির ছাড়পত্র বা ‘গো অ্যাহেড’ শংসাপত্র পেয়েছে। তারা ফের কাজ শুরু করতে পারবে? জমা পড়া আবেদনের মধ্যে ২৬৬টি নির্মাণের স্ক্রুটিনি এখনও বাকি। ‘ক্রেডাই বেঙ্গল’-এর প্রেসিডেন্ট সুশীল মোহতা বলেন, ‘হাই লেভেল অডিট কমিটি দ্রুত কাজ করছে। সরকার নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ আগস্টের মধ্যেই সবকটি নির্মাণের ছাড়পত্র মিলতে পারে বলে আশা করা যায়।’ তিনি আরও জানান, ২৬টি নির্মাণকে বেআইনি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও সেই নির্মাণগুলি ‘ক্রেডাই’-এর আওতাভুক্ত কোনো ডেভেলপারের নয়। কামারহাটি, বরানগর, বালি, গার্ডেনরিচে সেই নির্মাণগুলি রয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ক্রুটিনির আওতায় রয়েছে মোট ৭০৬টি নির্মাণ। তার মধ্যে ৫৮৫টি নির্মাণের সেফটি অডিটের জন্য আগ্রহপত্র জমা পড়েছিল। স্ক্রুটিনির পর ২০৪টি ছাড়পত্র পেয়েছে। ৮৯টি নির্মাণকে শর্তসাপেক্ষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ১১৫টি নির্মাণের সেফটি অডিটের জন্য সরকারের কাছে এখনও পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েনি।
এদিন নয়া সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে ‘ক্রেডাই কলকাতা’র সদ্য প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সিদ্ধার্থ পানসারি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই এই সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, আধিকারিকদের নিয়ে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমন সুযোগ আগে হয়নি। এখন কাটমানি-সিন্ডিকেটের দিন শেষ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ ‘ক্রেডাই হাওড়া-হুগলি’র সভাপতি তমাল ঘোষাল বলেন, ‘সাময়িকভাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা কিছুটা ধাক্কা খেলেও সরকারের পদক্ষেপ এই শিল্পের মজবুত ভবিষ্যৎ তৈরি করছে। নতুন সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে, যা নির্মাণশিল্পকেও ফায়দা দেবে। বেআইনি নির্মাণ আটকানো গেলে তার সুফল পাবেন ক্রেতারাও।’
‘ক্রেডাই’ জানাচ্ছে, চলতি বছর নির্মাণ শিল্পের জন্য সুখকর নয়। প্রথমে এসআইআর এবং নির্বাচনের জন্য শ্রমিক পেতে সমস্যা হয়েছে। তারপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গ্যাসসহ অন্যান্য সামগ্রীর জোগান ব্যাহত হয়েছে। অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। সুশীল মোহতা বলেন, ‘এত কিছুর পরেও যাঁরা ইতিমধ্যে ফ্ল্যাট বা আবাসন বুকিং করেছেন, তাঁদের থেকে আমরা বাড়তি টাকা দাবি করিনি। পুরানো দামেই তাঁরা ফ্ল্যাট পাবেন।’ তবে ক্রেতাদের সচেতনতার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। সুশীলবাবুর কথায়, ‘ফ্ল্যাট কেনার সময় দেখা উচিত, সেই প্রোমোটার বা ডেভেলপার রেরা-র আওতাভুক্ত কি না। তাহলেই নিয়মবর্হিভূত বা বেআইনি নির্মাণের কবলে ক্রেতাদের পড়তে হবে না।’নিজস্ব চিত্র