সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাওড়া জেলার প্রাচীন সর্বজনীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল ডোমজুড়ের কোলোড়া বীণাপানি ক্লাবের দুর্গাপুজো। এই পুজো এবার ১১৮তম বর্ষে পদার্পণ করল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকায় অনেক আগে থেকেই ধূমধাম করে শিব-দুর্গা পুজো হতো। ১৯০৭ সালে এলাকার কয়েকজন যুবককে নিয়ে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন হরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় হরেন্দ্রনাথবাবু পোর্ট কমিশনে চাকরি করতেন। ওই সংস্থায় তিনিই প্রথম ভারতীয় কর্মচারী। পুজো নিয়ে ওই পরিবারের অন্যতম সদস্য বাবু চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাবা যে বছর চাকরি পেয়েছিলেন, সেই বছরই পুজো শুরু হয়। আগে টিনের চালের মন্দিরে পুজো হতো। পরে পাকা মন্দির করে সেখানে দেবীর পুজো হয়। জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামোয় মাটির প্রলেপ পড়ে। সেদিন থেকেই শুরু হয় প্রতিমা গড়ার কাজ। চতুর্থীর দিন মা দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নতুন বেনারসী পরানো হয়। এমনকী, নবপত্রিকাকেও পরানো হয় পাট ভাঙা বেনারসী। তারপর সোনার অলংকার পরিয়ে সাজানো হয়। তাঁর কথায়, বৃহৎ নন্দিকেশ্বর পুরাণ মতে পুজো হয়। ষষ্ঠীর দিন বোধনের মধ্যে দিয়ে দেবীর পুজো শুরু হয়। পুজোর দিনগুলিতে মাকে নানারকম ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিদিন আড়াই কেজি চালের নৈবেদ্য এবং সন্ধিপুজোর সময় ৪০ কেজি চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। সপ্তমী, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে হয় পাঁঠা বলি। দশমীর দিন পুকুরেই বির্সজন দেওয়া হয় প্রতিমা। বাবু চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুজোর কয়েকটি দিন নাটক, নৃত্যানুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা, যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁরাও পুজোর সময় বাড়িতে আসেন।



