নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ভিবি জি রাম জি বা ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে এখনো পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। বাঁকুড়া জেলায় ১০০টি চালু প্রকল্পে ৩৩৮৪ জন শ্রমিক কাজ করছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা বীরভূম ও পুরুলিয়ায় যথাক্রমে ১৪৫৮ ও ১১১৫ জন শ্রমিককে কাজে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, শ্রম দিবস সৃষ্টির ক্ষেত্রে অন্যান্য জেলার তুলনায় বাঁকুড়া অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। আপাতত ১৯০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৯০টিতে প্রকল্প শুরু হয়েছে। শীঘ্রই জেলার বাকি অঞ্চলেও শ্রমিকদের কাজ দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, শ্রমদিবস ও প্রকল্পের নিরিখে আমরা রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছি। সরকারের নির্দেশমতো শুরু থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার ফলে আমরা সাফল্য পেয়েছি। জেলা থেকে পঞ্চায়েতস্তর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের সকল কর্মী-আধিকারিক সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যে কাজ করছেন। গ্রাম পঞ্চায়েতপিছু সর্বাধিক ২০টি প্রকল্পে একযোগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আগামী দিনে আমরা সর্বোচ্চ সীমায় ভিবি জিরামজি প্রকল্পকে নিয়ে যাব। জেলার সব গ্রামেই যাতে শ্রমিকরা কাজ পান, তার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ছাতনার তেঘড়ি অঞ্চলে প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন। ওই অঞ্চলের বনপুসরা গ্রামে পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে। কাজে নিযুক্ত শ্রমিক মমতা ভূমিজ, শান্তিময় ভূমিজ বলেন, মনরেগার কাজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা বঞ্চিত ছিলাম। তারফলে অনেককেই বাইরে কাজে যেতে হয়েছিল। ফের গ্রামে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। এরফলে আমাদের আর পরিযায়ী হতে হবে না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার মধ্যে রানিবাঁধ ব্লকে সবচেয়ে বেশি আট জায়গায় ১২৫ দিনের কাজ হচ্ছে। বড়জোড়া, ওন্দা ও বিষ্ণুপুরে সাতটি করে জায়গায় প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। জয়পুর, রাইপুর, শালতোড়া ও সিমলাপালে ছ’টি করে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাঁচটি করে প্রকল্প হচ্ছে বাঁকুড়া-২, ছাতনা, ইন্দাস ও খাতড়া ব্লকে। চারটি করে প্রকল্পের কাজ চলছে হীড়বাঁধ, ইন্দপুর, মেজিয়া ও সোনামুখীতে। পাত্রসায়র ব্লকে চলছে তিনটি প্রকল্পের কাজ। দু’টি করে প্রকল্প রূপায়ণ হচ্ছে গঙ্গাজলঘাটি, তালডাংরা ও কোতুলপুরে। বাঁকুড়া-১ ও সারেঙ্গা ব্লকে একটি করে প্রকল্পের কাজ চলছে। পিছিয়ে থাকা ব্লকে বেশি করে যাতে প্রকল্পের কাজ চালু হয়, তা দেখা হবে বলে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।