প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে চালু হয়েছে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প ‘ভিবি জি রামজি’। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে দক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও তা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, শীঘ্রই রাজ্য এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। সেক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিকদের দৈনন্দিন মজুরি একলাফে অনেকটাই বাড়তে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এক পর্যালোচনা বৈঠকে ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্পে দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘সেমি স্কিলড’ বা অর্ধদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ৩৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। নবান্নের খবর, এই অঙ্ক মোটের উপর অপরিবর্তিত রেখেই মজুরি বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
‘ভিবি জি রামজি’-তে অদক্ষ বা ‘আনস্কিলড’ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা ছিল কেন্দ্রের। সেই মতো গোটা দেশে এই প্রকল্পে অদক্ষ শ্রমিকদের ২৬০ টাকার বদলে ৩০০ টাকা করে দৈনিক মজুরি দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি আগেই জারি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু, ‘স্কিলড’ এবং ‘সেমি স্কিলড’ জবকার্ড হোল্ডাররা ‘ভিবি জি রামজি’র অধীনে কাজ করলে কত টাকা মজুরি পাবেন, সেটা ঠিক করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্যের। অভিজ্ঞ আমলারা জানিয়েছেন, রাজমিস্ত্রি, ছুতোর মিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, মেশিন অপারেটর ইত্যাদি কাজ করলে দক্ষ শ্রমিকের মজুরি পাবেন একজন জবকার্ড হোল্ডার। ‘সেমি স্কিলড’ শ্রমিক হিসাবে গণ্য হবেন মূলত সুপারভাইজাররা। সব ধরনের শ্রমিকদের এই মজুরি বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের।
প্রশাসনের এক কর্তা জানান, অনেকদিন পর এই মজুরি বৃদ্ধি হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিকে নজর রয়েছে সকলের। অন্যদিকে, সম্প্রতি ‘ভিবি জি রামজি’ নিয়ে রাজ্যকে বার্তা পাঠিয়ে আগামী তিন মাসের টার্গেট বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ, এ রাজ্যে জুলাই, আগস্ট, এবং সেপ্টেম্বরে ২১০০ কোটি টাকার কাজ হবে। এর মধ্যে ১২৫০ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। বাকিটা দেবে রাজ্য। ‘মনরেগা’ প্রকল্পে একটি রাজ্যে এক বছরের কত কর্মদিবস তৈরি হবে, তা বেঁধে দিত কেন্দ্র। সেই টার্গেট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ হয়ে গেলে মিলত অতিরিক্ত বরাদ্দ। ‘ভিবি জি রামজি’র নিয়ম কিছুটা আলাদা। এক্ষেত্রে রাজ্যকে প্রতি তিন মাসের জন্য একটি আর্থিক বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া হয়। এর ৬০ শতাংশ টাকা খরচ হবে মজুরি দিতে। বাকি ৪০ শতাংশ সামগ্রী ক্রয় ও অন্যান্য প্রয়োজনে খরচ করা যাবে।