নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও চুঁচুড়া: গ্রামোন্নয়নের বিভিন্ন কাজে এবার আরও বিস্তৃতভাবে কাজে লাগানো হবে ‘ভিবিজি রাম জি’ প্রকল্পকে। গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি পোলট্রি ফার্ম, গোশালা এবং শৌচালয় নির্মাণের মতো একাধিক কাজে এই প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার হাওড়ার শরৎসদনে জেলা প্রশাসন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকে এসে একথাই ঘোষণা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, দপ্তরের সচিব পি উলগানাথন, হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া সহ জেলার প্রশাসনিক ও পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
এদিকে, এদিন হাওড়ার পাশাপাশি হুগলি জেলাতেও প্রশাসনিক বৈঠক করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানে তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে পঞ্চায়েত এলাকা থেকে কর আদায় বেড়েছে। তবে সেখানে কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মানুষ কর দিতে চান। কিন্তু পূর্বতন সরকারের আমলে কর সংগ্রহের কাজে কর্মীদের উদ্যোগের অভাব ছিল। আবার টাকা সংগ্রহ হলেও তা সঠিকভাবে জমা পড়ত না। বর্তমানে সরকারের কোষাগারে পঞ্চায়েত থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা জমা পড়ছে। এই ব্যবস্থা আরো জোরালো হবে। আমরা পঞ্চায়েত আইনে বদল আনছি।
হাওড়ায় মন্ত্রী বলেন, ‘ভিবিজি রাম জি’ প্রকল্পে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে। এই প্রকল্পে কর্মদিবস ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করা হয়েছে, যাতে গ্রামীণ এলাকার আরও বেশি মানুষ কাজ ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। বনদপ্তরের আওতাধীন এলাকাতেও পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনার কথা তিনি জানান। এদিনের বৈঠকে আবাস যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা, ভিবিজি রাম জি, গ্রামীণ শৌচালয় নির্মাণ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার বরাদ্দ এবং সংশোধিত পঞ্চায়েত আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
‘ভিবিজি রাম জি’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন এখনও প্রত্যাশামাফিক হয়নি বলে স্বীকার করে নেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন জেলায় প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কী কারণে কাজের গতি কম, তা বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তিনি দাবি করেন, কোথাও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব, কোথাও আবার জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি প্রকল্প রূপায়ণে প্রভাব ফেলছে। তবে আগামী এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদী তিনি।
অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তুলনায় হুগলিতে পঞ্চায়েত এলাকায় ভালো কাজ হয়েছে। অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রীর দাবি, পঞ্চায়েতে অডিটের পাশাপাশি পথশ্রী প্রকল্পের কাজ নিয়ে তদন্ত করা হবে। ওই প্রকল্পের শেষদিকে অনিয়মের হয়েছে বলে অভিযোগ। সেগুলি আমরা খতিয়ে দেখব। আলুর উৎপাদন নিয়ে মন্ত্রীর দাবি, আগের সরকার ভরতুকি মূল্যে আলু কিনেছে। রাজ্যের বাইরে আলু যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। সেকারণেই উদ্বৃত্ত আলু নিয়ে সংকট গভীর হয়েছে। আমরা হিমঘর মালিক ও আলু ব্যবসায়ীদের কিছু ভরতুকি দিয়ে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর পরিকল্পনা করেছি। এ বিষয়ে বিভাগীয় স্তরে আলোচনা চলছে।