Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ডের গালুডি থেকে ছাড়া জলে প্লাবিত নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা

ঝাড়খণ্ডের গালুডি ড্যাম থেকে বারবার জল ছাড়ায় প্লাবিত হচ্ছে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্ৰাম ও গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ জমি।

ঝাড়খণ্ডের গালুডি থেকে ছাড়া জলে প্লাবিত নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়খণ্ডের গালুডি ড্যাম থেকে বারবার জল ছাড়ায় প্লাবিত হচ্ছে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্ৰাম ও গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ জমি। সুবর্ণরেখা তীরবর্তী এলাকা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের মালিঞ্চা গ্ৰামকে রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার থেকে জেলা সেচদপ্তরের উদ্যোগে শালবল্লা দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে। আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গ্ৰামবাসীরা। 

Advertisement

সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ঝাড়খণ্ড বাংলাকে না জানিয়ে গালুডি জলাধার থেকে বারবার জল ছাড়ছে। আমাদের আবেদনে কর্ণপাত করা হচ্ছে না। যার জেরে সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পাড় এলাকায় বিপজ্জনক ভাবে ভাঙন ধরছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন নদীর গ্ৰাস থেকে মালিঞ্চা গ্ৰামকে রক্ষা করতে হবে। শালবল্লা দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদী মালিঞ্চা গ্ৰাম থেকে ছ’ মাস আগে পাঁচশো ফুট দূরে ছিল। নদী এখন গ্ৰামের সীমানায় ঢুকে পড়ছে। নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে গ্ৰামের আম বাগান, পোস্ট অফিস, মন্দির। জলের তীব্রস্রোতে গ্ৰামের কংক্রিটের রাস্তার নীচের অংশ ধস নামিয়ে দিয়েছে। আর তিনফুট ধস নামলেই হু হু করে নদীর জল গ্ৰামে ঢুকে পড়বে। গ্ৰামবাসীদের অনেকেই এখন রাতে স্থানীয় আশ্রয় শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন। ধসে যাওয়া রাস্তা প্রশাসনের তরফে আগেই ঘিরে দেওয়া হয়েছে। মানস ভুঁইয়া জুলাই মাসের ৯ তারিখে মালিঞ্চা গ্ৰামে এসেছিলেন। সেইসময় গালুডি থেকে জল ছাড়ায় নদীর পাড় বরাবর গ্ৰামের বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে গিয়েছিল। দ্রুত নদীর পাড় ভাঙন রোধে কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে ফের নদীর পাড় ভাঙনের জেরে গ্ৰামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেলা সেচদপ্তর ও ব্লক প্রশাসন এরপরেই বৈঠকে বসে। নদীতে তীব্র জলস্রোত থাকায় ও পাড়ে বালিমাটি থাকার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই এদিন ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়। স্থানীয় গ্ৰামবাসী মহাদেব দণ্ডপাট বলেন, গত সপ্তাহে নদীর গ্ৰাসে আমার একতলা পাকা বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। ঢালায়ের রাস্তার উল্টো দিকে ছোট মাটির বাড়িতে পরিবার নিয়ে মাথা গুঁজেছি। ধস নামার জেরে ঢালাই রাস্তাটা ঝুলছে। ওটা ভাঙলে পুরো গ্ৰামে জল ঢুকে যাবে। তবে শালবল্লা দিয়ে ওখানে পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেচমন্ত্রী গ্ৰাম এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দ্রুত কাজ শুরু করার। প্রতিশ্রুতি রেখেছে দেখে স্বস্তি বোধ করছি। আর এক গ্রামবাসী রাজকুমার রানা বলেন, অন্তত শালবল্লা দিয়ে হলেও পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু হয়েছে।  আরও আগে শুরু হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের বিডিও নীলোৎপল চক্রবর্তী বলেন, গত শনিবার সেচদপ্তরের আধিকারিক ও ব্লক প্রশাসনের তরফে আমি মালিঞ্চা গ্ৰামে পরিদর্শন করি। গ্ৰামের ঢালাইয়ের রাস্তাটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। শালবল্লা দিয়ে নদী পাড়ের ওই অংশে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের সর্বক্ষণ নজর রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ