Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বরুণ-নারিনের স্পিনের ভেলকি, অঙ্গকৃশের হাফ-সেঞ্চুরি, জয়ের হ্যাটট্রিক কলকাতা নাইট রাইডার্সের

নিজামের শহরে উড়ল সোনালি-বেগুনি পতাকা। রবিবার উপ্পলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হেলায় হারায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। কোটিপতি লিগের চলতি আসরে টানা জয়ের হ্যাটট্রিক হল শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজির।

বরুণ-নারিনের স্পিনের ভেলকি, অঙ্গকৃশের হাফ-সেঞ্চুরি, জয়ের হ্যাটট্রিক কলকাতা নাইট রাইডার্সের
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

হায়দরাবাদ: নিজামের শহরে উড়ল সোনালি-বেগুনি পতাকা। রবিবার উপ্পলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হেলায় হারায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। কোটিপতি লিগের চলতি আসরে টানা জয়ের হ্যাটট্রিক হল শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজির। ১০ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে এই জয়ের সুবাদে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকল অজিঙ্কা রাহানে ব্রিগেড। ৯ ম্যাচে কলকাতার পয়েন্ট এখন ৭। তবে তালিকায় এখনও আটেই রয়েছে তারা। অন্যদিকে, ১০ ম্যাচে কমলা ব্রিগেডের ঝুলিতে ১২ পয়েন্ট। কলকাতার পরের ম্যাচ শুক্রবার। কোটলায় নাইটদের উলটো দিকে থাকবে দিল্লি ক্যাপিটালস।

Advertisement

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ের গতিতে শুরু করেছিল হায়দরাবাদ। অভিষেক শর্মা (১৫) দ্রুত ফিরলেও হোমটিমকে টানতে থাকেন ট্রাভিস হেড (২৮ বলে ৬১) ও ঈশান কিশান (৪২ বলে ২৯)। ৯ ওভারের পর সানরাইজার্সের স্কোর ছিল ১০৫-১। কিন্তু পরের ১০ ওভারে ৬০ রানে বাকি সব উইকেট হারায় তারা। কলকাতার দুই স্পিন ফলা, বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনই তফাত গড়ে দেন। তাঁদের সামনে অসহায় দেখায় বিপক্ষ ব্যাটারদের। ৩৬ রানে তিন উইকেট নেন বরুণ। এই নিয়ে টানা চতুর্থ ম্যাচে কমপক্ষে দুই উইকেট পেলেন তিনি। ম্যাচের সেরাও বরুণ। অন্যদিকে, আইপিএলে ২০০ উইকেটের ক্লাবে পৌঁছালেন নারিন (২-৩১)। ১৯৭তম ম্যাচে এই কীর্তির মালিক হলেন তিনি। তাঁর আগে এই মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার (১৯৯ ম্যাচে ২১৫ উইকেট) ও যুজবেন্দ্র চাহাল (১৮২ ম্যাচে ২২৮ উইকেট)। এদিন বরুণ-নারিনের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বল হাতে সাফল্য পেলেন পেসার কার্তিক ত্যাগীও (২-৩০)। নাইটদের ফিল্ডিংয়েও দারুণ উন্নতি হয়েছে। হেনরিখ ক্লাসেনের ক্যাচ শরীর ছুড়ে অসামান্য দক্ষতায় এক হাতে ধরেন রভম্যান পাওয়েল। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ক্যাচ হিসেবে যা আলোচিত হচ্ছে।
জবাবে পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারেই ৭১ তুলে ফেলে কলকাতা। ইমপ্যাক্ট সাব ফিন অ্যালেন (১৩ বলে ২৯) দ্রুত ফিরলেও অসুবিধা হয়নি। ক্যাপ্টেন রাহানে ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮৪। তাতেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। ৩৬ বলে ৪৩ করেন রাহানে। আর ৪৭ বলে রঘুবংশীর সংগ্রহ ৫৯। তাঁর ইনিংসে আছে পাঁচটা চার ও দুটো চার। এই দু’জন ফেরার পর দলকে (১৬৯-৩) জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রিঙ্কু সিং (অপরাজিত ২২) ও ক্যামেরন গ্রিন (৩)।
ম্যাচ শেষে নাইট অধিনায়ক রাহানে বলেন, ‘এই পিচে ২০০ রান তাড়া করা কঠিন হত। বোলারদের কৃতিত্ব প্রাপ্য। ওরা নিয়মিত উইকেট নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে বল করেছে। এই জয়টা খুব জরুরি ছিল। বরুণের জন্য ভালো লাগছে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দুর্দান্তভাবে ছন্দে ফিরল ও।’ বরুণের গলাতেও তৃপ্তি, ‘এখনও পায়ে সমস্যা রয়েছে। তা নিয়েই মাঠে নামছি। ব্যাটাররা যেভাবে খেলল, তা ইতিবাচক দিক।’ অঙ্গকৃশ বলেন, ‘অ্যালেন ও রাহানে যেভাবে শুরু করেছিল, তাতে রান তাড়াটা সহজ হয়ে ওঠে। আমি ক্রিজে গিয়ে উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। ছোটবেলায় এভাবেই দলকে জেতানোর স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্নই পূর্ণ হল। চারপাশে থাকা তারকাদের থেকে কত কিছু শিখছিও।’ তবে এই জয়ের আবহেও থাকছে প্রশ্ন। দ্রুত ম্যাচ শেষ করে নেট রান-রেট বাড়িয়ে রাখার তাগিদটা দেখাই গেল না। এরজন্য পরে আফশোস যেন না করতে হয়!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ