Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাইসেন্স থাকলেও বর্ধমানে বিভিন্ন হোটেল, নার্সিংহোম চলছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই

পরিকাঠামো না দেখেই হোটেল, লজ, নার্সিংহোম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিগত দিনে দেদার ফায়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্স থাকলেও বর্ধমানে বিভিন্ন হোটেল, নার্সিংহোম চলছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পরিকাঠামো না দেখেই হোটেল, লজ, নার্সিংহোম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিগত দিনে দেদার ফায়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ‘সেটিং’ থাকায় প্রতি বছর লাইসেন্স রিনিউ করতেও সমস্যা হয় না।  খাতায় কলমে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ‘সেফ জোনে’ থেকে গিয়েছেন। কিন্তু ওই সমস্ত হোটেল বা লজগুলি যাঁরা ভাড়া নেন, তাঁদের প্রাণের ঝুঁকি নি঩য়ে থাকতে হয়। অন্যান্য জেলার মতো বর্ধমানেও বহু নার্সিংহোম, হোটেল, লজ ঈশ্বরের ভরসাতেই চলছে। কোনো কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তারাপীঠের থেকেও ভয়াবহ কাণ্ড হতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, তারাপীঠে অভিশপ্ত হোটেল পর্যন্ত দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছাতে পেরেছিল। কিন্তু বর্ধমানে এমন কয়েকটি নার্সিংহোম বা হোটেল রয়েছে, সেখানে দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছানো সম্ভব নয়।

Advertisement

কংগ্রেস নেতা  গৌরব শর্মা বলেন, অধিকাংশ হোটেল বা নার্সিংহোমের ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে, কিন্তু আগুন নেভানোর ব্য‌বস্থা নেই। ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো দেখার নিয়ম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলি সব নিয়ম মেনে চললে তবেই লাইসেন্স দেওয়া হয়। অথচ পরিকাঠামো ছাড়াই কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানগুলি লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করা দরকার। নার্সিংহোমে কোনোভাবে অগ্নিসংযোগ হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। রোগীদের বের করে আনার আগেই বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল জমানায় ওই ধরনের অনিয়মগুলি হয়েছে। টাকা দিয়ে বহু অবৈধ কাজ করা হয়েছে। যেসব নার্সিংহোম বা হোটেলে আগুন নেভানোর পরিকাঠামো নেই, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি যে সমস্ত আধিকারিকরা লাইসেন্স ইস্যু করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ করা দরকার। নবাবহাটের অলিতে গলিতে নার্সিংহোম, হোটেল গজিয়ে উঠেছে। সেগুলি নিয়ম মানছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, এখন বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। কোনো আধিকারিক যদি নিয়ম না মেনে লাইসেন্স দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন। বর্ধমান শহরের খোসবাগান, নবাবহাট সহ বিভিন্ন এলাকা জতুগৃহে পরিণত হয়ে রয়েছে। প্রশাসনের উচিত পদক্ষেপ করা।জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পরিকাঠামো না থাকলে ফায়ার লাইসেন্স রিনিউ করা হবে না। অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। তারপরও যদি তারা তা না করতে পারে, তাহলে নার্সিংহোম বা হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে। আধিকারিকরা নিজে গিয়ে পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবেন। তারাপীঠের ঘটনার পর আর কোনো ভাবেই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ